ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » পাকিস্তান কি যুদ্ধের পথেই? সৌদির পাশে থাকার কঠিন সিদ্ধান্ত

পাকিস্তান কি যুদ্ধের পথেই? সৌদির পাশে থাকার কঠিন সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক এবং আর্থিক নির্ভরতার কারণে চরম কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যে ইয়েমেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় রিয়াদের নিরাপত্তায় সহায়তা দেওয়ার চাপ বাড়ছে ইসলামাবাদের ওপর। তবে একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়াতে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার পথ খুঁজছে দেশটি।

অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির চাপ

গত এপ্রিলে পাকিস্তানের ৩ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা দেয় সৌদি আরব। পরবর্তীতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আকাশসীমা রক্ষায় যুদ্ধবিমান ও পাইলট পাঠায় পাকিস্তান। বর্তমানে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ৩৮ শতাংশই সৌদি আমানত (৫ বিলিয়ন ডলার) ও জরুরি ঋণের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া গত বছর সৌদি আরব থেকে রেকর্ড ৯.৭৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী পাকিস্তানিরা।

এদিকে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নতুন অভিযান এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পাল্টা হামলা সংঘাতের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত শনিবার সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় হুথি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত ও শত শত মানুষ আহত হন। এই ঘটনার পর পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের নিরাপত্তায় ইসলামাবাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে রবিবার একই স্থাপনায় পুনরায় হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক প্রাণ হারান।

ত্রিদেশীয় যৌথ জোট ও ব্যর্থ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালী ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ এবং তেল ট্যাংকারে হুথি হামলার তীব্রতা বাড়ায় রিয়াদ তাদের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় করেছে। আগস্টে স্বাক্ষরিত এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্কও যুক্ত হয়েছে।

চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবকে প্রয়োজনীয় সামরিক সাহায্য দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হলেও ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি সেনা বা যুদ্ধবিমান পাঠাবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক উমর করিম জানান, হুতিদের দমনে ইরানকে রাজি করানোর বিষয়ে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ইয়েমেন ইস্যুতে ইসলামাবাদ ও তেহরান মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছে।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনমতের বিভাজন

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্যমতে, পাকিস্তানের ৬ লাখ ৬০ হাজারের বেশি সামরিক সদস্য এবং প্রায় ৪০০টি যুদ্ধবিমান রয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র হামলা পাকিস্তানের জন্য বড় উদ্বেগ। সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টাল অনুযায়ী, গত বছর অভ্যন্তরীণ হামলায় ১,২০০-র বেশি পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।

সামরিক সক্ষমতা থাকলেও ইয়েমেনে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিরুদ্ধে পাকিস্তানে তীব্র জনমত রয়েছে। দেশটির একটি বড় অংশ কৌশলগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এড়িয়ে চলার পক্ষে এবং ইরানের প্রতি সহানুভূতিশীল। এর আগে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার অনুরোধ পাকিস্তানের তৎকালীন পার্লামেন্ট সর্বসম্মতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

তবে পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক এজাজ হায়দারের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। শাহবাজ শরিফ সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তি সামরিক বাহিনীর ওপর বহুলাংশে নির্ভর করায় এবারের প্রতিরক্ষা চুক্তি ও সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে উন্মুক্ত বিতর্কের সুযোগ সীমিত।

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ঋণ ও প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার রক্ষায় সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। তবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা বজায় রাখা এবং ইয়েমেন সংঘাতের সরাসরি প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা পাকিস্তানের জন্য এখন সময়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে