নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের বিভিন্ন পশুখামার ও সরকারি প্রকল্পে পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন ২০২৬) সকাল ১১টায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আকাশ এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মো. হাসানুজ্জামান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ প্রাণী গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীন দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, ঠিকাদার হাফিজুর রহমান তার নিয়ন্ত্রিত চারটি প্রতিষ্ঠান— মেসার্স তুষার এন্টারপ্রাইজ, এনআর সিস্টেম, রোহান ইন্টারন্যাশনাল ও মেসার্স শিখা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে প্রায় ১৮ বছর ধরে বিএলআরআই সাভারের পশুখাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। অভিযোগ করা হয়, দরপত্রে অযাচিত ও নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করে তাকে বারবার কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, যা পিপিআর ২০০৮ ও ২০২৫-এর বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
একইভাবে সাভারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার, ছাগল খামারসহ বিভিন্ন প্রকল্পেও একই ধরনের সিন্ডিকেট কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরেক ঠিকাদার হিল্টন কুমারের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ আনা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তিনি নিজ নামে এইচএন ইন্টারপ্রাইজ, তার স্ত্রীর নামে মেসার্স অঙ্কিতা এন্টারপ্রাইজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তুহিনের নামে এফএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং তুহিনের মায়ের নামে মেসার্স লুৎফা এন্টারপ্রাইজ পরিচালনার মাধ্যমে পশুখাদ্য সরবরাহে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
মো. হাসানুজ্জামান অভিযোগ করেন, একই ধরনের ‘স্পেসিফিকেশনভিত্তিক’ শর্ত আরোপের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে দেশের অন্তত ২৫ থেকে ২৬টি জেলার পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, হিল্টন কুমার সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আ. লতিফ বিশ্বাসের এপিএস ছিলেন। সেই রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেই তিনি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় পিপিআর আইন ২০০৮ ও ২০২৫ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে চিহ্নিত সিন্ডিকেট ভেঙে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংবাদ সম্মেলনেরআয়োজকরা।
