নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর উত্তরায় হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পারিবারিক সম্প্রীতি এবং কোরবানির আদর্শকে সামনে রেখে আয়োজিত এই জামাতে কয়েক হাজার মুসল্লি অংশ নেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিলেন নারী।
বৃহস্পতিবার (ঈদের দিন) সকালে উত্তরার একটি ঈদগাহ মাঠে এই জামাতের আয়োজন করে হেযবুত তওহীদের ঢাকা মহানগর শাখা। জামাতে খুতবা প্রদান ও ইমামতি করেন সংগঠনের শীর্ষ নেতা এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।
সকাল সাতটার পর থেকেই উত্তরা, মিরপুর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মুসল্লিদের ঈদগাহ মাঠে আসতে দেখা যায়। অনেকেই স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করেন। সকাল আটটার মধ্যেই কয়েক হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদগাহ মাঠ ও প্যান্ডেল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
জামাত শুরুর আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি মুসলিম বিশ্বের চলমান সংকট, বিভক্তি ও অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ, ঐক্য এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। তিনি মুসলিম উম্মাহকে বিভেদ ভুলে কোরবানির চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
পরে সকাল নয়টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে খুতবা ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন উপস্থিত মুসল্লিরা। মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের অনেকেই একই স্থানে পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিশেষ করে উপস্থিত নারীরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে। তারা হেযবুত তওহীদের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসলামের প্রাথমিক যুগে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। ঈদ ও জুমার নামাজেও নারীদের উপস্থিতিকে উৎসাহিত করা হতো। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সেই সুন্নাহ অনুসরণের অংশ হিসেবেই হেযবুত তওহীদ নারী-পুরুষ উভয়ের অংশগ্রহণে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
তারা আরও বলেন, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও মূল্যবোধের আলোকে সমাজের পিছিয়ে থাকা নারীদের এগিয়ে নেওয়া এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।
ঈদুল আজহার এই বৃহৎ জামাতকে কেন্দ্র করে উত্তরায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং কোরবানির ত্যাগের আদর্শের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।
