ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা:অতিরিক্ত ভাড়ার ক্ষোভে ট্রাকেই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা:অতিরিক্ত ভাড়ার ক্ষোভে ট্রাকেই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা:অতিরিক্ত ভাড়ার ক্ষোভে ট্রাকেই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে প্রতিবারের মতো এবারও উত্তরবঙ্গের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি পিছু ছাড়েনি ঘরমুখো মানুষের। ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এর ওপর আবার যোগ হয়েছে গণপরিবহন সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়ার নৈরাজ্য। বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রীই অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পুংলি এলাকায় সরজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড টোল আদায়

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই সেতু দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা। যানবাহনের এই বিপুল চাপের কারণেই মহাসড়কে ধীরগতির সৃষ্টি হয়।

বিকল গাড়ি ও দুর্ঘটনাই ধীরগতির প্রধান কারণ

পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির কারণে ভোর থেকেই মহাসড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এর মধ্যে যমুনা সেতুতে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়া এবং সড়ক দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়।

সোমবার (২৫ মে) রাত ১২টা থেকে আজ পর্যন্ত: সেতুতে মোট ১১টি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকালে: যমুনা সেতুর উত্তরবঙ্গগামী লেনে একসঙ্গে ৪টি গাড়ির চেইন-দুর্ঘটনা ঘটে।

এসব কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজট ও ধীরগতির সৃষ্টি হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

বাসে অতিরিক্ত ভাড়া, ট্রাকে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাচ্ছেন না যাত্রীরা। আর যেসব বাস পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে চাওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে পোশাক শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে চড়ে রওনা দিচ্ছেন। সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় খোলা ট্রাকের এসব যাত্রীদের চরম ভিজতে হয়েছে। অতীতে ট্রাকে যাতায়াতের কারণে একাধিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নজির থাকলেও, নিরুপায় মানুষ বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকি নিচ্ছেন।

ভোক্তভোগী যাত্রীদের ক্ষোভ:

পোশাক শ্রমিক জয়নাল আবেদীন বলেন: “ঈদ এলেই বাসওয়ালারা ডাকাতি শুরু করে। গাজীপুর থেকে বগুড়ার স্বাভাবিক ভাড়া ৫০০ টাকা, এখন চাচ্ছে ১৪০০-১৫০০ টাকা! এত টাকা কই পাবো? তাই বাধ্য হয়ে ৩০০ টাকা ভাড়ায় খোলা ট্রাকে উঠেছি।”

লাবু শেখ নামের আরেক শ্রমিক জানান: “বাসের টিকিট তো পাওয়াই যাচ্ছে না, যা আছে তারও দাম আকাশচুম্বী। ট্রাকে ভাড়া কম, তাই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছি।”

সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী মরিয়ম বেগম বলেন: “বাসে সিট নেই, ভাড়াও দ্বিগুণ। ট্রাকে কষ্ট হলেও খরচ কম হচ্ছে, তাই এভাবেই যাচ্ছি।”

প্রশাসনের বক্তব্য ও নজরদারি

মহাসড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।”

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, “ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের সব ধরনের কার্যক্রম চালু রয়েছে। মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাকে বা মালবাহী যানবাহনে যাতে কোনো যাত্রী ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে না পারে, সেজন্য আমরা কঠোরভাবে মনিটরিং করছি।”

ভোগান্তি আর বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে লাখো মানুষের এই স্বজনমুখী স্রোত অব্যাহত রয়েছে। যাত্রীদের দাবি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যেন কেবল মৌখিক হুঁশিয়ারি না দিয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে