ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » নতুন ঠিকানায় যাচ্ছে সচিবালয়? আজ উঠতে পারে প্রস্তাব

নতুন ঠিকানায় যাচ্ছে সচিবালয়? আজ উঠতে পারে প্রস্তাব

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয় সেগুনবাগিচা ও আবদুল গনি রোড থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা আজ রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিগত অনুমোদন দিলে শেরেবাংলা নগরে দ্রুতই নতুন ও আধুনিক সচিবালয় নির্মাণের মূল কাজ শুরু করবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

৩২ একর জমিতে ১২ তলা আধুনিক কমপ্লেক্স

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেরেবাংলা নগরে প্রায় ৩২ একর উন্মুক্ত জমিতে আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন সচিবালয় নির্মাণের সমন্বিত নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রখ্যাত স্থপতি লুই কানের তৈরি জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল প্রস্তাবনায় ১২ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। তবে এটি মালয়েশিয়ার আধুনিক প্রশাসনিক নগরী পুত্রাজায়ার আদলে একটি পরিবেশবান্ধব ও উন্মুক্ত স্থাপত্য বিন্যাসে রূপ দেওয়া হবে।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রাথমিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থাপত্য অধিদপ্তর বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য মডেল উপস্থাপন করার পর একটি নির্দিষ্ট নকশা চূড়ান্ত করা হয়।

বিদ্যমান সচিবালয়ে চরম জায়গা ও পার্কিং সংকট

বর্তমানে আবদুল গনি রোডের মাত্র ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমিতে ছোট-বড় আটটি ভবন ও তিনটি টিনশেডে ৩৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। কিন্তু বিশাল এই কর্মযজ্ঞের বিপরীতে পার্কিং সুবিধা রয়েছে ১ হাজারের কম গাড়ির, অথচ চলাচলের স্টিকার বা অনুমতি দেওয়া হয়েছে প্রায় ১০ হাজার গাড়িকে। এতে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে ও জিরো পয়েন্টসহ চারপাশের প্রধান সড়কে প্রতিদিন মারাত্মক যানজট ও প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা ও সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা মেটাতে স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্তকে অপরিহার্য বলে মনে করছে সরকার।

চক্রাকার সড়ক ও পাতালপথের মহা-পরিকল্পনা

স্থানান্তরিত এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে স্থাপত্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবিত নকশায় নতুন সচিবালয়ের চারপাশে একটি চক্রাকার সড়ক নির্মাণের কথা বলা হয়েছে, যা বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের (সাবেক গণভবন) পাশ দিয়ে সোজা মিরপুর প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে।

এ ছাড়া বিজয় সরণি থেকে আগারগাঁও হয়ে মিরপুর ১০ নম্বরমুখী সড়কের নিচ দিয়ে একটি অত্যাধুনিক ‘পাতালপথ’ (Underpass/Tunnel) নির্মাণের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। ফলে ওপরের সড়ক দিয়ে শুধু সচিবালয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন প্রবেশ করবে এবং সাধারণ পরিবহনগুলো নিচের পাতালপথ ব্যবহার করে কোনো যানজট ছাড়াই যাতায়াত করতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিবেশগত উদ্বেগ

এদিকে আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের এই পরিকল্পনায় আপত্তি জানিয়েছেন নিকটস্থ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। তাদের তীব্র আশঙ্কা, এই বিশাল ও জনবহুল প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হলে ওই অঞ্চলের শান্ত সবুজ পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও শিক্ষা-গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেরেবাংলা নগরের ৩৬ একর জায়গা পর্যালোচনার ভিত্তিতে ৩২ একরে নতুন নকশা গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হলে পরবর্তী দৃশ্যমান বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে