ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’: অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় রাষ্ট্রপতির

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’: অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় রাষ্ট্রপতির

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

“ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই মৌলিক অধিকার আমরা রাষ্ট্র এবং সংবিধান থেকেই লাভ করেছি। আমাদের মহান সংবিধান যে অধিকার দিয়েছে, তা রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। ১৯৭১ সালে যেভাবে আমরা সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলাম, আমরা আজও সেই নীতিতে অবিচল আছি এবং তা রক্ষা করতে যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত।”

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক আবেগঘন মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশ সম্প্রীতির অভূতপূর্ব নিদর্শনের দেশ’

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব অনন্য নিদর্শন বহন করে আসছে। আমাদের হাজার বছরের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্প—সবকিছুর মূল সুরেই রয়েছে এই মেলবন্ধন। এই সম্প্রীতির সুদৃঢ় বন্ধন নষ্ট করে যারা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় বা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়, তাদের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কখনোই উগ্রবাদী নয়। আমরা কোনো বিষয়ে চরমপন্থায় বিশ্বাস করি না। দুর্ভাগ্যক্রমে দেশে ও বিদেশে একটা মহল মিথ্যা প্রচার চালিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করে যে বাংলাদেশে সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এ দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছেন যে, তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সুন্দর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন।”

গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন

রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ট্রানজিশন বা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। একটি ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক কালো অধ্যায় পেরিয়ে দেশ এখন পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। দেশবাসীকে ধৈর্যের সঙ্গে এই অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সর্বস্তরের জনগণ তা সানন্দে গ্রহণ করেছে। সংবিধান সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণে ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সেই সংস্কার ও বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আশ্বাস ও শুভেচ্ছা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি আশ্বাস দেন যে, সরকার যে কোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ নিরাপত্তাবেষ্টিত পরিবেশে পূজা উদযাপনে বদ্ধপরিকর। হিন্দু সম্প্রদায়ের ন্যায্য দাবিগুলো বিবেচনায় যথাযথ সরকারি সহযোগিতার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। বক্তব্য শেষে তিনি দেশবাসীকে শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথসহ সনাতন ধর্মের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে