নবপ্রকাশ ডেস্ক: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং প্রশ্নপত্রে ত্রুটির অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন একদল পরীক্ষার্থী।
‘শিক্ষার্থী ঐক্য’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সোমবার (১৩ জুলাই) এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়, শাহবাগ, উত্তরা ও মিরপুরসহ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভের কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, রংপুর জিলা স্কুলসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে সোমবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল দায়িত্বজ্ঞানহীন, অমানবিক এবং শিক্ষাবান্ধব নীতির পরিপন্থী।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষা স্থগিতের জন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন সংগঠন এবং কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সুপারিশ থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা আমলে নেয়নি। এর ফলে অনেক পরীক্ষার্থী দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, এই পরিস্থিতির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় শিক্ষামন্ত্রী এড়াতে পারেন না। তারা ঘটনার দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এসব কর্মসূচির ঘোষণায় কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থী বা সংগঠকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ‘শিক্ষার্থী ঐক্য’ এবং ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষা সচিব আবদুল খালেকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, চট্টগ্রামসহ পাঁচ জেলায় আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকবে। তবে দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে সব বোর্ডের পরীক্ষা একযোগে স্থগিত রাখা বাস্তবসম্মত নয়। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। বারবার পরীক্ষা পেছালে ফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি এবং সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থার কারণে একটি বোর্ডের সমস্যার ভিত্তিতে সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করাও সম্ভব নয়।
টানা অতিবর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী প্লাস্টিকের নৌকায় করে বা ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে বলে অভিযোগ করছেন আন্দোলনকারীরা । এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ কয়েকটি ছাত্রসংগঠনও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে।
