ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বর্তমানে অত্যন্ত সাধারণ একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা। বুকজ্বালা, অম্বল, অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) নিয়ন্ত্রণে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করে থাকেন। বিশেষ করে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI) যেমন— Omeprazole, Esomeprazole, Pantoprazole এবং H2 রিসেপ্টর ব্লকার জাতীয় ওষুধ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসব ওষুধ নিরাপদ হলেও অপ্রয়োজনীয় ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনের ফলে শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের শোষণ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে দুর্বলতা, অবসাদ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, পেশিতে খিঁচুনি এবং রক্তস্বল্পতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি PPI ব্যবহারের সঙ্গে হাড়ের ক্ষয় ও ভাঙনের ঝুঁকিও সম্পর্কিত। ক্যালসিয়াম শোষণ কমে যাওয়ার কারণে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে অস্টিওপোরোসিস এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। তাই দীর্ঘদিন এসব ওষুধ ব্যবহারকারীদের হাড়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

এছাড়া পাকস্থলীর অ্যাসিড শরীরকে বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন অ্যাসিড কমিয়ে রাখলে অন্ত্রের কিছু সংক্রমণ, ডায়রিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

কিছু গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে কিডনির দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং কিডনির প্রদাহের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবুও দীর্ঘদিন ওষুধ সেবনকারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অনেক সময় ওষুধ বন্ধ করার পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হতে পারে, যাকে “রিবাউন্ড অ্যাসিড হাইপারসিক্রেশন” বলা হয়। এতে রোগী আবারও বুকজ্বালা ও অম্বলের সমস্যায় ভুগতে পারেন এবং ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এবং প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার পরিহার, ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সুতরাং, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর হলেও দীর্ঘদিন অপ্রয়োজনীয়ভাবে সেবন করলে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই যেকোনো গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রাকিবুল আহ্সান

রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে