ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » দিল্লিতে বিক্ষোভ: ব্যারিকেড সরানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, সচল ইন্টারনেট ও মেট্রো

দিল্লিতে বিক্ষোভ: ব্যারিকেড সরানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, সচল ইন্টারনেট ও মেট্রো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন কেন্দ্র করে জারি করা বিধিনিষেধ এবং জনজীবন বিপর্যস্ত করার পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লিতে দ্রুত মেট্রো ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা, বন্ধ থাকা ইন্টারনেট পরিষেবা চালু রাখা এবং সাংবাদিক ও আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা না দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের আশপাশ থেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ শুনানি শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করেন। একই সঙ্গে আদালতের পূর্ব নির্দেশ অমান্য করায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের (ডিএমআরসি) চেয়ারম্যান ডি থারারের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে পুরো দিল্লিকে অচল না করতে আগেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। তবে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর ৪৫টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং শতাধিক ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। এর ওপর ভিত্তি করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ত্রিপাঠী ও মেনকা গুরুস্বামী আদালত অবমাননার আবেদন করেন।

রোববার শুনানিকালে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালতকে জানান, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার কেড়ে নিয়ে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও একাধিক সংসদ সদস্যসহ হাজার হাজার নাগরিককে বেআইনিভাবে প্রিজন ভ্যানে পুরো শহর ঘোরানো হয়েছে। ইন্টারনেট সেবা অঘোষিতভাবে বন্ধ রেখে এই বেআইনি ধরপাকড়ের খবর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আইনজীবী শাদান ফারাসত শুনানিতে অভিযোগ করেন, বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ ও আইনি সহায়তা দিতে গেলে চলন্ত বাস থেকে তাঁকে ছুড়ে ফেলে হেনস্থা করা হয়েছে।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রবেশদ্বারের বাইরে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারির তীব্র বিরোধিতা করে অনতিবিলম্বে ওই সংক্রান্ত বোর্ড সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন, যাতে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ না হয়।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর ভৌগোলিক মানচিত্রসহ বিশদ ব্যাখ্যার হলফনামা দাখিল করতে নির্দেশ দেন। তিনি পর্যবেক্ষণে বলেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সংবিধানস্বীকৃত অধিকার নিয়ন্ত্রণের ঊর্ধ্বে নয় ঠিকই, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সাধারণ নাগরিক ও আইনজীবীদের বেআইনিভাবে আটক কিংবা পরিবহন ব্যবস্থা অচল করে পুরো শহর অবরুদ্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) ধার্য করা হয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে