নিজস্ব প্রতিবেদক,কুমিল্লা: কুমিল্লার দেবীদ্বারে দশম শ্রেণির ছাত্রকে দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ের পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি দেবীদ্বারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নতুন পাস হওয়া ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন ২০২৬’ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
নতুন আইনে কোনো পরীক্ষক কোনো পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র অতিমূল্যায়ন (ওভার অ্যাসেস) বা অবমূল্যায়ন (আন্ডার অ্যাসেস) করলে তিনি সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে অতি বা অবমূল্যায়নের বিষয়টি নির্ধারিত হতে হবে। বিলে শিশুদের বিষয়ে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো শিশু এই আইনের অধীনে অপরাধ করলে শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলার আবদুল্লাহপুর হাজি আমীর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়াকে। তার তত্ত্বাবধানে থাকা বিজ্ঞান বিষয়ের ওই উত্তরপত্র তিনি নিজে মূল্যায়ন না করে নিজ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়ন (মার্কিং) করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই শিক্ষার্থীকে দিয়ে শিক্ষক বাচ্চু মিয়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা যায়। সে সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে ওই ছাত্রের এক বন্ধুকে বলতে শোনা যায়, ‘বাচ্চু স্যার তোকে দিয়ে বোর্ডের খাতা মার্কিং করায়, ভালো করে দেখ।’ জবাবে ওই শিক্ষার্থী বলে, ‘এটা একটি ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দিই, তা বাচ্চু স্যারও দিত না।’
বাংলাদেশের আইন অনুসারে, শিক্ষার্থীকে দিয়ে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করানো সম্পূর্ণ বেআইনি, অনৈতিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিক্ষা বোর্ডগুলোর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, পরীক্ষার উত্তরপত্র কেবল নির্দিষ্ট পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা শিক্ষার্থীকে দিয়ে দেখা, নম্বর দেওয়া বা বৃত্ত ভরাট করানো যাবে না।
শিক্ষার গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফলাফলের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য খাতা দেখার দায়িত্ব শুধু শিক্ষকের। কোনো শিক্ষক যদি নিজে খাতা না দেখে শিক্ষার্থীকে দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করান, তবে শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা, এমনকি বরখাস্ত বা লাইসেন্স বাতিলের মতো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
এ ধরণের অপরাধের শাস্তি কার্যকর হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
