রাষ্ট্রের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি একটি দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিচ্ছবি। আর সেই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় অংশীদার আজকের তরুণ সমাজ। চাকরি, শিক্ষা, উদ্যোক্তা সুযোগ, প্রযুক্তি ও জীবনযাত্রার ব্যয়—সবকিছুর সঙ্গে বাজেটের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই জাতীয় বাজেট নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তরুণদের মধ্যেই দেখা যায়।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিপ্রার্থী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা—বাজেটে যেন তাদের বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন ঘটে। বিশেষ করে বেকারত্ব কমাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে প্রণোদনা, প্রযুক্তি শিক্ষায় বিনিয়োগ এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চান তারা।
ঢাকার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, “শুধু বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প নয়, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরির সুযোগ বাড়ানোর দিকেও সরকারকে বেশি নজর দিতে হবে।”
বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও তরুণদের বড় চিন্তার কারণ। অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি বা খণ্ডকালীন কাজ করে নিজেদের খরচ চালান। তাই তারা চান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে গণপরিবহন, ইন্টারনেট খরচ ও শিক্ষা উপকরণে ভর্তুকির দাবিও রয়েছে তরুণদের মধ্যে।
অন্যদিকে, তরুণ উদ্যোক্তাদের দাবি—ছোট ব্যবসা ও অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগের জন্য কর কমানো এবং সহজে ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক ঋণ পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। তাদের মতে, সঠিক সহায়তা পেলে তরুণরাই দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশই তরুণ। তাই বাজেটে যদি তরুণদের চাহিদা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে সেটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
তরুণদের ভাষায়, “আমরা ভর্তুকি নয়, সুযোগ চাই। এমন একটি বাজেট চাই, যেখানে স্বপ্ন দেখার সাহস বাড়বে।”
রাষ্ট্রের আগামী দিনের চালিকাশক্তি এই তরুণ সমাজ। তাই তাদের প্রত্যাশা, এবারের বাজেট শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাস্তব জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।
নুসরাত জাহান (এ্যানি) শিক্ষার্থী, গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ।
