নবপ্রকাশ ডেস্ক:
সারাদেশে চলমান তীব্র দাবদাহে বিদ্যুতের চাহিদা একলাফে বহুলাংশে বেড়ে গেলেও বড় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে রাজধানীসহ সারাদেশে আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। কোথাও দিনে-রাতে পালাক্রমে বিদ্যুৎ ব্যাহত হচ্ছে, আবার কোনো কোনো অঞ্চলে চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড অফ বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর আনুষ্ঠানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় দেশজুড়ে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৬০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেছে ১৪ হাজার ২৪৩ মেগাওয়াট, অর্থাৎ কেবল দুপুরেই জাতীয় গ্রিডে নিট ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬১৭ মেগাওয়াট। এর আগে দুপুর ১২টায় ১৫ হাজার ৩২৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৯২১ মেগাওয়াট (ঘাটতি ১ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট)। রাতের দিকে এই চিত্র আরও সংকটজনক রূপ নেয়; রাত ১টার দিকে সরবরাহ ও চাহিদার ফারাক বেড়ে ঘাটতি আড়াই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি (২ হাজার ৩৮৭ মেগাওয়াট) গিয়ে পৌঁছায়।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই ঘাটতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে দেশের প্রধান ও বড় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন নেমে যাওয়াকে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে গতকাল দুপুরে উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ৭৫০ মেগাওয়াট। অপরদিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন একধাক্কায় অনেক কমে গেছে। তা ছাড়া আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ আরও বেশ কয়েকটি বড় তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না থাকায় জাতীয় গ্রিডে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসসংকটের প্রভাবও কম নয়—গতকাল দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৬৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট, যার মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে ১০১ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট।
জাতীয় গ্রিডের এই চরম বিদ্যুৎ ঘাটতির সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক বিতরণ লাইনগুলোতে। বরিশাল অঞ্চলে গত দুদিনে বিদ্যুতের ঘাটতি মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। ওজোপাডিকো ও ছয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বরিশালে সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৮৫০ মেগাওয়াট হলেও পিক-আওয়ারে পিজিসিবি থেকে মিলছে মাত্র সাড় ৪শ মেগাওয়াট। এর ফলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অনুরূপ নাজুক অবস্থা দেখা গেছে ময়মনসিংহ অঞ্চলেও। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলায় এক হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে অন্তত ৪৫৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মধুপুর, ধনবাড়ী ও ঘাটাইল এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত করুণ—সেখানে ময়মনসিংহের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় ২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে কোনোমতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে লোডশেডিংয়ের ভারে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
