নবপ্রকাশ ডেস্ক:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক আকাশপথে নেমে এসেছে নজিরবিহীন সংকট। এর সরাসরি প্রভাবে ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ও মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত শনিবার থেকে আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) ভোর পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত মোট ৬১টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এয়ারলাইন্সগুলো। এতে অন্তত ৯ হাজার ২৬৯ জন প্রবাসী যাত্রী ও গন্তব্যগামী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ৬১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
-
সরাসরি ফ্লাইট: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, রিয়াদ এয়ারের ৭টি, সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
-
ট্রানজিট ফ্লাইট: ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালামএয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি সংযোগকারী ফ্লাইট বাতিল রয়েছে। বিভিন্ন দেশ হয়ে রিয়াদমুখী এসব ফ্লাইটের ক্ষেত্রে মূল গন্তব্য বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে যাত্রী গ্রহণ বন্ধ রেখেছে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে অন্তত ৫ বার হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চালানো এক হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন বিমানচালকসহ (পাইলট) তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন।
উল্লেখ্য, বিগত প্রায় দুই মাস ধরে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক সামরিক জোটের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার মাত্রা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এর মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরকে প্রধান সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বিদ্রোহীরা। হুতিদের তরফ থেকে আগেই চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছিল—সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারকারী যেকোনো এয়ারলাইন্স কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হবে। সেই হুমকির ধারাবাহিকতায় শনিবার ও রোববার রিয়াদ বিমানবন্দরে পরপর দুটি ভয়াবহ হামলার পরই পুরো বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়, যার নেতিবাচক খেসারত দিতে হচ্ছে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিকে।
