নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা জোরালো হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করা, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তি আরও মজবুত করা এবং নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে কার্যক্রমে গতি আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহের যেকোনো সময় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমান কমিটি পুনর্গঠন অথবা নতুন কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদনের পরই জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নতুন কমিটি ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে। দলীয় অঙ্গনে আলোচনায় এগিয়ে থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এ খোকন।
দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে এস এ খোকনের নাম নেতৃত্বের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব ও উত্তরা পশ্চিম থানায় রাজনৈতিক মামলাসহ মোট ২২টি মামলা ছিল। এছাড়া একটি মামলায় তিনি চার বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন এবং ওই সময়ে দুই দফায় কারাবরণ করেন বলেও দলীয় সূত্র দাবি করেছে।
এদিকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় উত্তরায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর নেতৃত্বের বিষয়টিও দলীয় মহলে আলোচিত হচ্ছে। দলীয় সূত্রের দাবি, ১৯ জুলাই উত্তরায় এস এ খোকনের নেতৃত্বাধীন একটি মিছিল থেকে বিমানবন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জুবায়ের ব্যাপারী শহীদ হন। একইভাবে, ৫ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানার সামনে অনুষ্ঠিত আরেকটি মিছিলে ৫০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রানা তালুকদার গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
তবে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্বে শুধু এস এ খোকনই নন, আরও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দলীয় সূত্রের মতে, নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলকে আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কারা শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বে আসছেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।
