জীবনযাপন ডেস্ক
টবে মাটি খুঁড়তে গিয়ে চারটি অচেনা ডিম। আবার গ্রামের পরিত্যক্ত একটি ঢেঁকিঘরের মাচায় একসঙ্গে ১২টি ডিম। প্রথম দেখায় দুটোকেই সাপের ডিম মনে হতে পারে। কিন্তু চোখে পড়লেই কি ধরে নিতে হবে, এগুলো সাপের? কিংবা আশপাশে সাপের আনাগোনা রয়েছে?
সাপের ডিম নিয়ে এমন ভয় বা ভুল ধারণা অনেকেরই থাকতে পারে। অথচ সরীসৃপের বিভিন্ন প্রজাতির ডিম দেখতে অনেকটা একই রকম হওয়ায় শুধু আকার বা চেহারা দেখে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
সম্প্রতি টবে আগাছা পরিষ্কার করার সময় মাটির নিচে চারটি ছোট ডিম পাওয়া যায়। ডিমগুলো টিকটিকির ডিমের তুলনায় কিছুটা বড় ও লম্বাটে হওয়ায় প্রথমে সাপের ডিম বলেই মনে হয়েছিল।
ভয়ে ডিমগুলো নাড়াচাড়া না করে সেখানেই মাটি চাপা দেওয়া হয়। পরে ডিমগুলোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে বিভিন্ন মন্তব্য থেকে জানা যায়, এগুলো আসলে সাপের নয়—অঞ্জন নামের এক নিরীহ সরীসৃপের ডিম।
অঞ্জন দেখতে অনেকটা ছোট টিকটিকির মতো। শরীর চকচকে ও ডোরাকাটা তামাটে রঙের। চার পায়ে দ্রুত চলাফেরা করে বলে একে সাপ ভেবে ভুল করার সুযোগও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে আর্জিনা, অ্যাঞ্জন, সাপের আঁচিল ও সাপের লাঠিসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত এই প্রাণী।
অঞ্জনের ইংরেজি নাম । বৈজ্ঞানিক নাম লেজ বাদে এর শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ সেন্টিমিটার এবং লেজ প্রায় ১৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
এর শরীরের ওপরের অংশ ধাতব-বাদামি রঙের, আর নিচের অংশ সাধারণত ক্রিম বা হলুদাভ সাদা। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই এই সরীসৃপের দেখা মেলে।
তাই মাটির নিচে ডিম দেখলেই সেগুলোকে সাপের ডিম ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোনো অচেনা ডিম বা সরীসৃপের উপস্থিতি চোখে পড়লে অযথা হাত না দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই ভালো। প্রয়োজনে ছবি তুলে বিশেষজ্ঞ বা বন্যপ্রাণী বিষয়ে অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
