ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » জাবির ১৩ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন

জাবির ১৩ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হামলাসহ ক্যাম্পাসে সংঘটিত নানা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিয়েছে । এর মধ্যে একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর ও ১২ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে ভিন্ন ভিন্ন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সদস্য ছিলেন৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান রাতভর বৈঠক শেষে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন।

২০২৪ সালের ১৪, ১৫ ও ১৭ জুলাই সংঘটিত ঘটনা ঘিরে গঠিত তদন্ত ও স্ট্রাকচারাল কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেটে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘২০২৫ সালের ১৭ মার্চ গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দীর্ঘ আলোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পান এবং কোনো অপরাধী যেন পার না পেয়ে যান, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত কমিটির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির যে রিপোর্ট ছিল সেটার ভিত্তিতে সিন্ডিকেট স্ট্রাকচার কমিটি করেছে এবং সেখানে আমরা ১৯ জন শিক্ষক এবং দুইজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ করেছি। কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করেই আজকে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’

ভিসি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন ভিসি, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) ও কোষাধ্যক্ষের ভূমিকাও উঠে এসেছে। তবে তাদের নামে তখন কোনো স্ট্রাকচার কমিটি গঠন করা হয়নি। তাই সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের প্রত্যেকের নামে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে । তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি হামলার অভিযোগ ছিল। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রভাষক পদে পদাবনতি করা হয়েছে একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদারের দুই বছরের ইনক্রিমেন্ট বাতিল করে নিম্নতর বেতনস্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই বছরের ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়েছে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের। সাবেক প্রক্টর ও পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আলমগীর কবিরের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক বশির আহমেদের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দুই বছর পর গ্রেড উন্নয়নের আবেদন করার সুযোগ রাখার পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুনকে সতর্ক করার পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য এবং ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরাকে সতর্ক করা হয়েছে।

বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসানের বেতন, পাশাপাশি দুই বছর পর পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজের বেতন দ্বিতীয় গ্রেডে নামিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদারের বেতন প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দিয়ে দুই বছর পর গ্রেড উন্নয়নের আবেদন করার সুযোগ রাখার পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া দুই কর্মকর্তার মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেওয়ার পাশাপাশি দুই বছর পর ফের পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে, এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন ছাত্রনেতারা। জাকসুর জিএস ও জাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারের নামে প্রহসন করেছে প্রশাসন। তারা সাপও মারলেন না, লাঠিও ভাঙলেন না।

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অদ্রি অঙ্কুর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে শুধু প্রো-ভিসির (শিক্ষা) বিষয়ে সিদ্ধান্ত এসেছে। ভিসি, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) ও ট্রেজারারের ক্ষেত্রে নতুন করে স্ট্রাকচার কমিটি গঠন ছাড়া আর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন প্রক্টর আলমগীর কবিরকে মৃদু শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শুধু বেতন গ্রেড কমানো এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত কেবল প্রহসন। জুলাই আন্দোলনের জাবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, শিক্ষকরা আসলে শিক্ষকের বিচার করতে চান না। গণঅভ্যুত্থানের এতদিন পর জুলাই হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার প্রশ্নে প্রশাসন আবারও সেটিই প্রমাণিত হলো।

এনএফ

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে