নবপ্রকাশ ডেস্ক:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়ে বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার বৈষম্য ও দুর্বলতার তীব্র সমালোচনা করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সংঘাতের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সীমান্ত পেরিয়ে অনায়াসে পৌঁছে গেলেও সাধারণ কৃষকের কাছে সময়মতো সার ও জ্বালানি না পৌঁছানোর বৈপরীত্য তুলে ধরে বিশ্বনেতাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ৩৬ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ বলেন, বিশ্ব এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করেছে যেখানে যুদ্ধের জন্য সরবরাহব্যবস্থা প্রায় নিখুঁত, কিন্তু খাদ্যের নিরাপত্তার জন্য তা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রশস্ত্র সব ধরনের সীমান্ত বাধা পার হয়ে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে যায়, অথচ প্রয়োজনে একজন কৃষক বাজারদরে প্রয়োজনীয় সার বা জ্বালানিটুকু সংগ্রহ করতে পারেন না।
এই সংকটকে কেবল নেপালের নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান কিংবা শ্রীলঙ্কা—আমাদের অঞ্চলের যেকোনো দেশকে জিজ্ঞেস করুন, একই চিত্র শুনতে পাবেন।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এমন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যার জন্য তারা দায়ী নয়; আবার এমন যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব তাদের সামলাতে হচ্ছে যা তারা শুরু করেনি।
সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভোতেকোশি বন্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, ওই দুর্যোগে ১,৪০০-এরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। প্রকৃতির এই তাণ্ডবের প্রেক্ষাপটে তিনি হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তিনি নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ নেতৃত্বে ‘হিমালয়ান ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের ওপর প্রায় ২০০ কোটি মানুষের পানি, কৃষি ও জীবিকা নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কিংবা বন্যা কোনো ভিসা-পাসপোর্ট বা সীমান্ত মানে না, তাই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই এই অভিন্ন হুমকি মোকাবিলা করতে হবে।
