নবপ্রকাশ ডেস্ক:
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যবহৃত টিনশেড স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাটি কোনো চাঁদাবাজির কারণে নয়, বরং ৩৫ কাঠা জমির স্বত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার অন্তর্গত ইসিবি চত্বরের ৩৫ কাঠা জমির মালিকানা নিয়ে ‘নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’-এর সঙ্গে এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার আইনি ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে একদল লোক রাতের আঁধারে বিতর্কিত জমিটি দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এ সময় ওই জমিতে থাকা সালমান মুক্তাদিরের ব্যবহৃত টিনশেড স্টুডিওসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়।
মন্ত্রী বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায় এবং জড়িত তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।
সালমান মুক্তাদির এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেননি জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনার সার্বিক বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হতে পারে।
এদিকে ঘটনার পরদিন ফেসবুক লাইভে এসে সালমান মুক্তাদিরের বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তোলা ‘চাঁদাবাজির’ ঢালাও অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সালমান নিজের মুখেই বলেছেন যে তাঁর কাছে সরাসরি কেউ কোনো চাঁদা দাবি করেনি।
মন্ত্রী মন্তব্য করেন, “যার কাছে সরাসরি কোনো চাঁদা দাবিই করা হয়নি এবং যিনি নিজেই বলেছেন যে চাঁদা চাইলে তিনি দিয়ে দিতেন; তাঁর মুখে কীভাবে একটি দলকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে ঢালাও অভিযোগ মানায়? সালমান মুক্তাদিরের যদি নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তিনি মামলা করতে পারেন। সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অবশ্যই তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে।”
