নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনের পঞ্চম শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান দিপুর (৫০) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শফিউল হাসান জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতা (সেক্রেটারি) এবং স্থানীয় কাজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ৪ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল থেকে বদলগাছীর ভান্ডারপুর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আলফা কিন্ডারগার্টেনে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার সকালে বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। এই সুযোগে প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান দিপু উক্ত শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। তবে শিশুটির বুদ্ধিমত্তায় তিনি কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচেন এবং বাড়িতে ফিরে পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি অবহিত করেন।
মঙ্গলবার সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা ভান্ডারপুর মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আগুন নেভাতে এলে শুরুতে জনতার বাধার মুখে পড়লেও পরবর্তীতে পুলিশি পাহারায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত শফিউল হাসানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে লিখিত মামলা দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকলকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
