ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » মধ্যমগ্রামে রক্তাক্ত হামলা, শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ নিহত

মধ্যমগ্রামে রক্তাক্ত হামলা, শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ নিহত

 

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ (৪২) দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

 

বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোলতলা ও চৌমাথার মধ্যবর্তী দোহারিয়া এলাকায় যশোর রোডের ওপর এই ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডে ভাড়াটে খুনিদের জড়িত থাকার প্রবল সন্দেহ করছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক সাড়ে দশটা নাগাদ চন্দ্রনাথ রথ কলকাতা থেকে মধ্যমগ্রামে তার ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন। কালো রঙের স্করপিও গাড়িটি দোহারিয়ার কাছাকাছি পৌঁছালে হেলমেট পরা একদল দুষ্কৃতী নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে এসে গাড়িটির পথ আটকায়। হামলাকারীরা প্রথমে গাড়ির সামনের উইন্ডশিল্ড লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং এরপর চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে অন্তত ৬ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চালানো গুলিতে চন্দ্রনাথের বুকে ও শরীরে একাধিক ক্ষত তৈরি হয়। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

 

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডে অত্যন্ত পেশাদার খুনিদের ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কার্তুজ এবং ফরেনসিক আলামত দেখে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, হামলাকারীরা ‘গ্লক ৪৭এক্স’ এর মতো অত্যন্ত উন্নত ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে।

পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সুপরিকল্পিতভাবে হেলমেট পরে এসেছিল যাতে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়।

 

হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ইতিমধ্যে একাধিক বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে। যশোর রোডের আশেপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর বয়ান এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

 

উল্লেখ্য, মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন।

পেশাগতভাবে তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) প্রাক্তন সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তীতে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

 

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় সাফল্যের পর পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, চন্দ্রনাথ রথের এই হত্যাকাণ্ড তাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে ২-৩ দিন ধরে চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখা (Recce) হয়েছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আদালত-নিয়ন্ত্রিত সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রাক্তন সেনা সদস্য এবং বিরোধী দলনেতার এত কাছের মানুষের ওপর এহেন হামলা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে