ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ঘুষ নিয়ে নাগরিকের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছে ঘুষ.সাইট

ঘুষ নিয়ে নাগরিকের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছে ঘুষ.সাইট

বিশেষ প্রতিবেদন | নবপ্রকাশ ডেস্ক

৩০ দিনে ৫৫২ কোটি টাকার ঘুষের তথ্য: ময়মনসিংহের শাহেদের ‘ঘুষ.সাইট’ এখন নাগরিক প্রতিবাদের মুখ

ময়মনসিংহের ১৭ বছর বয়সী তরুণ শাহেদ শরীফ আহমেদের হাত ধরে চালু হওয়া ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) এখন দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ও প্রতিবাদ জানানোর এক নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। গত ২১ আগস্ট চালু হওয়া এই ওয়েবসাইটে মাত্র ৩০ দিনের মাথায় জমা পড়েছে ১৯ হাজারেরও বেশি অভিযোগ, যার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রায় ৫৫২ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন ও দাবির ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।

তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই ‘ঘুষ.সাইট’-এর জন্ম

২০২২ সালের ডিসেম্বরে শাহেদ শরীফ আহমেদের মা আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আমিনা খাতুন মারা যান। এরপর মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশনের পাওনা টাকা তুলতে গিয়ে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদে পদে হয়রানি ও লাখ টাকার ঘুষ দাবির মুখে পড়তে হয় শাহেদের পরিবারকে। পরবর্তীতে নিজের পাসপোর্ট করতে গিয়েও তাকে একই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়।

এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে এবং নাগরিক হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আইটি বিশেষজ্ঞ বন্ধু আসিফ কবীরকে সাথে নিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তোলেন ‘ঘুষ.সাইট’।

যেভাবে কাজ করে প্ল্যাটফর্মটি

রাষ্ট্রের যে কোনো নাগরিক নিজের পরিচয় গোপন রেখে অত্যন্ত নিরাপদ উপায়ে এই প্ল্যাটফর্মে এসে হয়রানির বিবরণ দিতে পারছেন। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নাম বা মানহানির উদ্দেশ্যে নয়, বরং কোন দপ্তরে কী ধরনের সেবার জন্য কত টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরাই এই সাইটের মূল কৌশল।

শীর্ষ তালিকায় ভূমি ও পাসপোর্ট কার্যালয়

সাইটে আসা হাজার হাজার অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের ভূমি অফিস ও পাসপোর্ট কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি ও ঘুষ দাবির ঘটনা সবচেয়ে বেশি।

হুমকিতেও অনড় উদ্যোক্তারা

দুর্নীতির চিত্র এভাবে জনসমক্ষে উন্মোচিত হওয়ায় অসাধু চক্র উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। প্ল্যাটফর্মটি চালুর পর থেকেই একের পর এক হুমকি পাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। তবে এতেঘুষের তথ্য প্রকাশে ডিজিটাল বিপ্লব: ৩০ দিনে ১৯ হাজার অভিযোগ, আর্থিক অঙ্ক ৫৫২ কোটি টাকা

 দুর্নীতি আর নাগরিক হয়রানির ভয়াবহ বাস্তব চিত্র প্রকাশ্যে এনে সাড়া ফেলেছে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) নামের একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। চালুর মাত্র ৩০ দিনের মাথায় এতে জমা পড়েছে ১৯ হাজারেরও বেশি অভিযোগ, যেখানে ঘুষ দাবি ও লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৫২ কোটি টাকা।

ময়মনসিংহের বাসিন্দা শাহেদ শরীফ আহমেদ নামের এক ভুক্তভোগী নাগরিকের উদ্যোগেই চালু হয়েছে এই অভিনব প্ল্যাটফর্মটি। নিজের জীবনের দুটি তিক্ত অভিজ্ঞতা—মায়ের মৃত্যুর পর পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দাবি এবং পরবর্তীতে পাসপোর্ট করতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হওয়া—তাকে এমন কিছু করার প্রেরণা জোগায়। পরে তিনি তার আইটি বিশেষজ্ঞ বন্ধু আসিফ কবীরকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন এই ওয়েবসাইট, যা গত ২১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

প্ল্যাটফর্মে জমা পড়া তথ্যানুযায়ী, দুর্নীতির তালিকার শীর্ষে রয়েছে দেশের ভূমি অফিস ও পাসপোর্ট অফিসগুলো। সাধারণ মানুষের সেবামূলক এসব দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ দাবি ও হয়রানি সবচেয়ে বেশি বলে অভিযোগে উঠে এসেছে।

পরিচয় গোপন রেখে নাগরিকরা যেন নির্বিঘ্নে তাদের হয়রানির কথা জানাতে পারেন—এমনভাবেই নকশা করা হয়েছে সাইটটি। তবে এতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করার সুযোগ নেই। মূলত কোন দপ্তরে, কী ধরনের সেবার জন্য কত টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, সেটির সুনির্দিষ্ট তথ্যই তুলে ধরা হচ্ছে এতে।

স্বতঃস্ফূর্ত এ প্ল্যাটফর্মে জমে থাকা অভিযোগ দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অসাধু চক্র। ফলে ইতিমধ্যেই উদ্যোক্তাদের কাছে একের পর এক হুমকি আসতে শুরু করেছে। তবে সব হুমকি উপেক্ষা করে তারা নিজেদের অবস্থানে অনড়। উদ্যোক্তা শাহেদ শরীফ বলেন, “কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন বা কারো মানহানি করা আমাদের লক্ষ্য নয়। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ও নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকে এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে। আমরা চাই মানুষ পরিচয় গোপন রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোক এবং এই তথ্যগুলো সরকার ও নীতি নির্ধারকদের দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা গঠনে সহায়তা করুক।”

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত সহায়ক। টিআইবি প্রতি দুই বছর পরপর জাতীয় খানা জরিপের মাধ্যমে ঘুষের চিত্র তুলে আনে, আর ‘ঘুষ.সাইট’ ঠিক একই কাজটি করছে ডিজিটাল মাধ্যমে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং সরকারি দপ্তরে হয়রানি বন্ধে সরকারেরও এ ধরনের ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে তিনি মতামত দেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে