ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাপরিকল্পনা

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাপরিকল্পনা

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

দেশের ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন খেলাপি ঋণের চাপ মোকাবিলা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ঋণ আদায়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট আইন সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংক খাতকে সুদৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করাতেই এই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে দেশের আর্থিক খাত ও ব্যাংকগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩১.৪১ শতাংশ। এর আগে গত ৩১ মার্চে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা (৩০.৯২%)। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা (১ বছর):

যেসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, তাদের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সাথে প্রতি তিন মাস পর পর বৈঠকে বসবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া প্রতিটি ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা আদায়ের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচিত হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইএফআরএস-৯ (IFRS-9) অনুসরণ করে ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ বা সম্ভাব্য ঋণক্ষতি নিরূপণ নীতি এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের তালিকা প্রকাশের আইনি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা (২-৩ বছর):

খেলাপি ঋণ আদায়ে সাফল্য দেখানো ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। একই সাথে ভালো ও নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে বিদ্যমান প্রণোদনা নীতি ঢেলে সাজাবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা (৪-৫ বছর):

ঋণ আবেদন মঞ্জুর, তদারকি ও আদায়ে কাঠামোগত শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে ঋণ দেওয়ার শুরুতেই ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান নিরূপণ করা যায়।

নতুন ৪ আইনের উদ্যোগ:

আইনি কাঠামো আধুনিকায়নে ‘ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে ‘অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬’ এবং আইএফসি (IFC)-র কারিগরি সহায়তায় ‘দেউলিযাত্ব ও দেউলিয়া কার্যক্রম আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেম中央 ব্যাংকের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ব্যাংক খাতে ছাড় দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করে খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা জরুরি।” সমন্বিত এই চার আইন বাস্তবায়ন হলে ব্যাংক খাতের ভঙ্গুরতা কেটে আস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে