খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার হরিণটানা থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে পাঁচ মাস পর। হত্যার শিকার অটোচালক মারুফের (প্রায় ৩৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বাড়ির আঙিনা থেকে। নিহত মারুফ খুলনার খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, খুলনার হরিণটানা থানাধীন চক আহসানখালি মৌজার জংশন রোড রেল ব্রিজের পূর্ব পাশে ব্লু স্কাই প্রপার্টিজ ও শাহনেওয়াজ প্রপার্টিজ সংলগ্ন মনসুর মোল্লার বাড়ির আঙিনা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই বাড়ির বাসিন্দা মনসুর মোল্লার ছেলে মুরাদ ও তার স্ত্রী ফাল্গুনী জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত মারুফের অটো ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গোপনে ওই বাড়ির আঙিনায় পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
খুলনা হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন মুরাদের স্ত্রী ফাল্গুনী। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী দুজনই জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
ওসি আরও জানান, গত রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে মুরাদ তার স্ত্রী ফাল্গুনীকে মারধর করেন। পরে ফাল্গুনী থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশের কাছে তিনি পুরো ঘটনার বিষয়টি জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং পরে মরদেহ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
পাঁচ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া অটোচালক মারুফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
