ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ক্ষতিকর কেন ঘুমের ওষুধ?

ক্ষতিকর কেন ঘুমের ওষুধ?

জীবনযাপন ডেস্ক

রাতে ঘুম না এলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে সেবন করেন। শুরুতে এসব ওষুধ সাময়িক স্বস্তি দিলেও নিয়মিত ব্যবহারে তৈরি হতে পারে নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতা। এমনকি দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিও থাকে।

আসক্তি ও নির্ভরশীলতা

ঘুমের ওষুধ নিয়মিত সেবনের অন্যতম বড় সমস্যা হলো এর প্রতি শরীর ও মস্তিষ্কের নির্ভরতা তৈরি হওয়া। দীর্ঘদিন একই মাত্রায় ওষুধ গ্রহণ করলে আগের মতো কার্যকারিতা নাও থাকতে পারে। ফলে অনেকে ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়িয়ে দেন, যা পরবর্তীতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একপর্যায়ে ওষুধ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

স্মৃতি ও মনোযোগে প্রভাব

কিছু ঘুমের ওষুধ মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম ধীর করে ঘুম আনতে সাহায্য করে। নিয়মিত বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে এর প্রভাব স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং চিন্তাভাবনার স্বাভাবিক কার্যক্রমে পড়তে পারে। ফলে দৈনন্দিন কাজেও দেখা দিতে পারে মনোযোগের ঘাটতি কিংবা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা।

সকালে থেকে যায় ঘোরভাব

ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পর অনেকের পর্যাপ্ত সময় ঘুম হলেও সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর পুরোপুরি সতেজ লাগে না। ঝিমুনি, মাথা ভার লাগা, দুর্বলতা কিংবা অবসাদ দিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। গাড়ি চালানো বা মনোযোগ প্রয়োজন এমন কাজের ক্ষেত্রেও এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

শ্বাসপ্রশ্বাসে তৈরি হতে পারে ঝুঁকি

কিছু ধরনের ঘুমের ওষুধ পেশি শিথিল করার কারণে ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে। দীর্ঘদিন ওষুধ ব্যবহারে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঘুমের সমস্যা হলেই নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ শুরু করা নিরাপদ নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ঘুমের জন্য এটিকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত নয়।

বরং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার অভ্যাস, রাতে অতিরিক্ত মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার এড়িয়ে চলা, ক্যাফেইন গ্রহণ কমানো এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা থাকলে কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে