ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » কে এই মাজেদুর? ২৮ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মূল কারিগর

কে এই মাজেদুর? ২৮ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মূল কারিগর

কেএএম মাজেদুর রহমান—একসময় প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বর্তমানে মালদ্বীপ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তবে বর্ণাঢ্য এই ক্যারিয়ারের আড়ালে এখন উঠছে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। দুদকের অনুসন্ধানে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগের সঙ্গে মাজেদুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টায় আদালতের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে—কে এই মাজেদুর রহমান, কীভাবে প্রিমিয়ার ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার অনিয়মের সঙ্গে তার নাম জড়াল?

খুবই ধূর্ত প্রকৃতির মাজেদুর প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা লুটপাটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সিন্ডিকেটে থাকা ২০ জনের বিরুদ্ধে আদালত ইতোমধ্যে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে অর্থ লুটপাটের তথ্য-উপাত্ত মিলেছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে পরবর্তী ধাপে আরও বাড়তে পারে।

এদিকে বিদেশে ব্যাংকের শীর্ষ পদে বসে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই কাটছিল তার সময়। কিন্তু বিধিবাম। মাজেদুর দেশে এসে পান দুসংবাদ। অতঃপর তিনি নানা অজুহাতে দেশ ছাড়তে মরিয়া। তবে দুদকের পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও কঠোর অবস্থানের কারণে আদালত তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক খাতে লুটপাটে জড়িত থেকে পার পেয়ে যাওয়ার কৌশল ভালোই রপ্ত করেছিলেন সুচতুর মাজেদুর রহমান। দেশে দুর্নীতির পাঠ চুকিয়ে এবার বিদেশে গিয়ে আরাম-আয়েশে দিন কাটাবেন, এমনটাই হয়তো ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই হিসাব মেলেনি। দুদকের অনুসন্ধানে একের পর এক অনিয়মের তথ্য ও রেকর্ডপত্র সামনে আসায় বিদেশের নিরাপদ আশ্রয়ও এখন অনিশ্চিত তার জন্য। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বারবার বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি তিনি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ব্যাংক খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে একজনের পর একজন অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে গিয়ে বহাল তবিয়তে থাকার সুযোগ পাবেন। মাজেদুর রহমানের ক্ষেত্রেও এখন অনুসন্ধান দ্রুত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দুদক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মালদ্বীপ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, তৎকালীন প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালের বিভিন্ন অর্থ আত্মসাতের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে অনুসন্ধান দল।

দুদক সূত্র জানায়, এইচবিএম ইকবাল, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের সঙ্গে মাজেদুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তৎকালীন ব্যাংকের বোর্ডও এসব অনিয়মের বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ছিল।

সূত্র জানায়, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদাধিকারবলে নির্বাহী পর্ষদের সদস্য সচিব ছিলেন মাজেদুর। ফলে ব্যাংকের চেক, বিল ও ভাউচার অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা ছিল। অনুসন্ধানকারী দল প্রতিটি আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেন আলাদাভাবে যাচাই করছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম। রেকর্ডপত্রে যাদের নাম, বোর্ডে যাদের উপস্থিতি এবং যাদের অনুমোদন পাওয়া যাবে, পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।

দুদক সূত্র আরও জানায়, মাজেদুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এর আগে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য চাওয়া হলে মাজেদুর রহমানের সম্পৃক্ততা ও তার বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত পদক্ষেপের বিস্তারিত জানিয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

দুদক সূত্রের দাবি, প্রিমিয়ার ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ইতোমধ্যে প্রায় ১৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা হয়েছে। কমিশন কার্যকর থাকলে অনুসন্ধান থেকে মামলার সংখ্যা আরও বাড়ত।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা অনুসন্ধানের অংশ হিসাবেই মাজেদুরের নাম এসেছে। দুদকের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ইকবাল ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ইকবাল সেন্টারসহ বিভিন্ন শাখার অফিস ভাড়া বাবদ ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে লুটপাট ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ বিতরণ দেখিয়ে ৪ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন স্টেশনারি খাতে ব্যয় দেখিয়ে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর তথ্যপ্রমাণও পেয়েছে দুদক।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে