নবপ্রকাশ ডেস্ক:
কুমিল্লা জেলাজুড়ে দিনভর কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ২৫৪ জন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার জেলার ১৮টি থানায় পুলিশের প্রতিটি ইউনিট একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করে।
রোববার সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের সরাসরি নির্দেশনায় কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টসহ জেলার ১৮টি থানার আওতাধীন বখাটে ও কিশোর গ্যাং অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন। মোট ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পূর্ববর্তী অপরাধের ইতিহাস ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই শেষে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিশোর গ্যাং নির্মূলে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে কোতোয়ালি মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, শুধু কুমিল্লা নগরী থেকেই ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’-এর অন্যতম নিয়ন্ত্রক আনিক (১৯) রয়েছে। সে নগরীর ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশেমের ছেলে এবং বর্তমানে আত্মগোপনে থাকা রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতনের অনুপস্থিতিতে আনিকই গ্রুপটির অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, আটক ৩৭ জনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তথ্য পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার রাতেও কুমিল্লায় পরিচালিত এক অভিযানে ৬২৪ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে ৪৫১ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয় এবং অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ত ১৭৩ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ্যে আসার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরপরই কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের নির্মূলে পুরো জেলাজুড়ে কঠোর অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
