ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » কমতে পারে মোবাইলে কথা বলার খরচ

কমতে পারে মোবাইলে কথা বলার খরচ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইলে কথা বলার খরচ বা কলরেট কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন মূল্য বা ‘ফ্লোর প্রাইস’ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত এক উন্মুক্ত গণশুনানিতে গ্রাহকদের প্রশ্নের জবাবে কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গণশুনানিতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে জামালপুরের বাসিন্দা রকীব রায়হান কলরেট কমানোর পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক জোরদার করার দাবি জানান। এর জবাবে বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে প্রতি মিনিট ভয়েস কলের সর্বনিম্ন ট্যারিফ ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ট্যারিফ ২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে এই সর্বনিম্ন সীমা (৪৫ পয়সা) আরও কমিয়ে আনার বিষয়ে বর্তমানে পর্যালোচনা চলছে।

একই সময়ে টেলিটকের সেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিটিআরসির প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিসুল আলম পারভেজ বলেন, হাওর ও পাহাড়ি অঞ্চলসহ দেশের দুর্গম প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়াতে টেলিটক বেশ কিছু উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

দিনব্যাপী এই গণশুনানিতে মোবাইল সেবার সার্বিক গুণগত মান, নেটওয়ার্ক দুর্বলতা, প্রতিনিয়ত কলড্রপ, ইন্টারনেট ডাটাকাপলিং ও ডাটার মেয়াদ শেষে ক্যারি-ফরওয়ার্ড সুবিধা, সিম নিবন্ধন এবং এনইআইআর (NEIR) ব্যবস্থা নিয়ে গ্রাহকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মাস্কিং ছাড়া আসা স্প্যাম মেসেজ ও আন্তর্জাতিক ওটিপি (OTP) পেতে দেরি হওয়া প্রসঙ্গে বিটিআরসি জানায়, জালিয়াতি রুখতে দেশের সব ধরনের বার্তা প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে মাস্কিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের কারিগরি জটিলতার কারণে মাঝে মাঝে ওটিপি সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। অন্যদিকে, ইন্টারনেট ডাটা প্যাকেজের নানা জটিল শর্ত নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের জবাবে সব শর্ত স্পষ্টভাবে বিজ্ঞাপনে ও মেসেজে প্রচার করতে অপারেটরদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

জরুরি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ার প্রসঙ্গে কমিশন জানায়, টাওয়ারগুলোর পাওয়ার ব্যাকআপ মনিটর করতে একটি কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে, যা দিয়ে সারাদেশের মোবাইল টাওয়ারগুলোর কার্যকারিতা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গণশুনানিতে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন (সংশোধিত ২০২৬)-এর ৮৭ ধারা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার এই ধরনের গণশুনানির আয়োজন করা হবে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক ও নাগরিকেরা সরাসরি তাঁদের অভিযোগ, পরামর্শ ও মতামত তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। শুনানিতে আসা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করে সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিটিআরসি সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে অংশ নিতে অনলাইনে ২ হাজার ৯৯০ জন গ্রাহক নিবন্ধন করেন। যার মধ্যে ১ হাজার ৪৭ জন বিভিন্ন পেশাজীবী, ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী এবং ১৭২ জন নারী অংশ নেন। গ্রাহকদের তোলা প্রধান প্রধান প্রশ্নের মধ্যে ট্যারিফ কমানো, ইন্টারনেটের মেয়াদের অবশিষ্টাংশ পরবর্তী প্যাকেজে যোগ করা (ক্যারি-ফরওয়ার্ড) ও নেটওয়ার্ক সেবার মান উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে