নবপ্রকাশ ডেস্ক:
প্রিজন ভ্যান থেকে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে নয়, পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) সহায়তায় প্রাইভেটকারে উঠে শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে পিচ্চি রাজাকে বের করে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে তুলে দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পালানোর নাটক সাজানো হয়।
এ ঘটনায় পিচ্চি রাজাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে পুলিশের এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক পিচ্চি রাজাসহ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
পুলিশ কমিশনার জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ জন আসামিকে নিয়ে একটি প্রিজন ভ্যান কাশিমপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামানো হয়। সেখানে ভ্যানের ইনচার্জ এএসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালকের কাছ থেকে চাবি নেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর হাজতি পিচ্চি রাজা ও খাইরুল বাশারকে প্রিজন ভ্যান থেকে বের করা হয়। খাইরুল বাশারকে ভ্যানের সামনে নেওয়া হলেও পিচ্চি রাজা ও প্রবীর কুমার ভ্যানে ওঠেননি। এ সময় ঘটনাস্থলে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে পিচ্চি রাজাকে তুলে দেওয়া হয়।
পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রবীর কুমার আবার ঘটনাস্থলে ফিরে এসে প্রিজন ভ্যানে ওঠেন। এরপর স্কট পার্টির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাজানো হয় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
জিএমপি কমিশনার বলেন, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় প্রিজন ভ্যান থেকে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। তবে পরবর্তী তদন্তে ওই বক্তব্যের সঙ্গে অসংগতি পাওয়া যায়।
ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের মধ্যে এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেনকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের একজন বলে পুলিশের দাবি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রায় আট দিন ধরে পলাতক থাকা পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মোঃ আকরাম হোসেন গাজীপুর
