ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

নবপ্রকাশ ডেস্ক

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর ২০২৬:

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের চলমান সংকট ও অস্থিরতার মধ্যে দেশে এলপিজির দাম বাড়াতে ধর্মঘট বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ১৯৫৬ সালের ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ প্রয়োগ করে কঠোর আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠককালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ ও কমিশন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) দুই দিনব্যাপী দেশব্যাপী এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন। সেই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান জ্বালানিমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “আজকে বিশ্বে এই জ্বালানি খাতটা সাংঘাতিক একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় জ্বালানি সংকট চলছে এবং এর মূল্যের কোনো ঠিকঠিকানা নেই। দাম ক্রমাগত ওঠানামা করছে।”

আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি উৎসের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখন একমাত্র আমেরিকাই সোর্স হিসেবে বাকি আছে, তা ছাড়া আর কোনো সোর্স ঠিক নেই। এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যেন ভোক্তা পর্যায়ে সহনীয় দামে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা যায়।”

ধর্মঘটের বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে যদি কেউ ধর্মঘট করার চেষ্টা করে, তবে আমাদের ১৯৫৬ সালের আইন রয়েছে এবং আমরা সেই আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করব। কথায় কথায় ধর্মঘট করে পণ্যের মূল্য বাড়ানোর এই মানসিকতা কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না।”

সরকারের দায়িত্বশীলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ যোগ করেন, “এটি জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ে নির্বাচিত সরকার। জনগণের আস্থা নিয়ে আমরা দায়িত্বে এসেছি, তাই দেশের সাধারণ মানুষ যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

তবে চরম পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সকলকে আলোচনার মাধ্যমে জটিলতা সমাধানের আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “যারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন, তারা আলোচনার টেবিলে বসে কথা বলে যেন বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করেন।”

উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ করা হলে সরকার যে কোনো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ, মজুদ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা, বাজেয়াপ্তকরণ ও কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে