ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » “ঋণ নয়, বিদেশি বিনিয়োগেই ভরসা অর্থমন্ত্রীর”

“ঋণ নয়, বিদেশি বিনিয়োগেই ভরসা অর্থমন্ত্রীর”

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান (এয়ারক্রাফট), জ্বালানি তেল, সয়াবিনসহ বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কমোডিটি আমদানির ফলে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অনেক দূর এগিয়েছে। বিনিময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বড় আকারের আর্থিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।

বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় মূলত বাংলাদেশের সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন উন্নয়ন সহায়তা এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংক (ইউএস এক্সিম ব্যাংক) এবং মার্কিন সহায়তাসংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্যিক ভারসাম্যের বিষয়টি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, “বিগত দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পায়নি। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে একাধিক এয়ারক্রাফট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি তেল ও খাদ্যপণ্য আমদানি করছি। তাই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—যেহেতু আমরা তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করছি, সেহেতু মার্কিন পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়তি সহায়তা আসা উচিত।”

তিনি আরও জানান, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও ইউএস এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই যুক্তির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছেন।

ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগে জোর

সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক কৌশল প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) এবং যৌথ বিনিয়োগ (Joint Venture) বৃদ্ধি করাই তাদের মূল অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, “আমাদের নতুন অর্থনৈতিক নীতির প্রধান ভিত্তি হচ্ছে বিনিয়োগমুখী ব্যবস্থা। আমরা ঋণের বোঝা বাড়ানোর পথ থেকে সরে এসে সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে মার্কিন ইউএস এক্সিম ব্যাংকসহ বৈশ্বিক অংশীদারদের যুক্ত করতে চাই। এই বিষয়ে ইউএস এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।”

আমদানির পরিমাণের বিপরীতে মার্কিন সহায়তার জোরালো তাগিদ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের বড় অঙ্কের আমদানির প্রভাব সরাসরি আমাদের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে (Balance of Payments) পড়ছে। আমরা বৈঠকে জোর দিয়ে বলেছি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমর্থন না আসলে আর কবে আসবে? আমরা প্রত্যাশিত সহযোগিতার বিষয়ে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছি এবং তারাও এতে সম্মতি প্রকাশ করেছে। এখন দেখার বিষয় বাস্তবে তারা এই সহায়তা কত দ্রুত বাস্তবায়ন করে।”

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে