ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ইলিশের বাজারে আগুন

ইলিশের বাজারে আগুন

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে সব ধরনের জাল ফেলার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি হতে যাচ্ছে। আর দুদিন পর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটসহ সদরের বিভিন্ন ঘাটে এখন ইলিশ বেচাকেনার জমজমাট ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। তবে আমদানির তুলনায় চাহিদা বহুগুণ বেশি থাকায় শেষ মুহূর্তে বেড়েছে ইলিশের বাজারদর।

সোমবার (৫ অক্টোবর) চাঁদপুরের বেশ কয়েকটি প্রধান মাছঘাট ও আড়ত ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চাহিদা বাড়লেও ইলিশের পর্যাপ্ত যোগান না থাকায় দাম কমার কোনো সুযোগ মিলছে না।

বিভিন্ন মাছঘাটের চিত্র ও বর্তমান বাজারদর:

  • চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট ও হরিণা ফেরিঘাট: গত দুই সপ্তাহ আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশ যেখানে কেজিপ্রতি ২,৪০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৮০০ থেকে ৩,০০০ টাকায়।

  • বহরিয়া মাছঘাট: ঘাটে আসা ইলিশের একটি বড় অংশই আকারে ছোট (সর্বোচ্চ ৫০০ গ্রাম)। ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়, আর ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি ঠেকেছে ২,০০০ টাকায়।

 হরিণা ঘাটের পাইকারি বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর ছৈয়াল জানান, গত সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ২০০ মণ ইলিশের আমদানি হলেও ইদানীং তা কমে এসেছে। দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা তাজা ইলিশের আশায় ঘাটে ভিড় করলেও তাদের চাহিদা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

বহরিয়া এলাকার জেলে হান্নান গাজী ও হানারচর ইউনিয়নের জেলে নজরুল ইসলাম বলেন, আগস্টে আমদানি কম থাকলেও মৌসুমের শেষ ভাগে এসে ইলিশের দেখা মিলছে কিছুটা বেশি। তবে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে শুধুমাত্র নৌকার খরচ উঠে কোনোমতে দিন চলছে। এর ওপর জালে ময়লা-আবর্জনা আটকে যাওয়ায় অভিযানের আগে আর মাত্র দুই- একদিন নদীতে নামার সুযোগ পাবেন বলে জানান তারা।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত সরকার জানান, প্রজনন মৌসুমের ঠিক আগে কম দামে ইলিশ কেনার আশায় ঘাটে এসে অনেক ক্রেতাই খালি হাতে বা হতাশ হয়ে ফিরছেন। আমদানি না বাড়লে দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

 চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, শেষ মুহূর্তে এসে জেলেরা নদীতে কম-বেশি ইলিশ পাচ্ছেন এবং সামগ্রিকভাবে এবারের ইলিশের গড় আকার বেশ ভালো। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে এবং ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে এর প্রত্যক্ষ সুফল জেলেরাই পরবর্তীতে ভোগ করবেন। ইতোমধ্যে প্রজনন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে