বিনোদন ডেস্ক
অস্কারজয়ী নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির তৈরি চার ঘণ্টার দীর্ঘ তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। টেসলা, স্পেসএক্স ও ‘এক্স’-এর কর্ণধার ইলন মাস্ককে এই তথ্যচিত্রে ক্ষমতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক প্রভাবের এক অস্বস্তিকর প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মাস্ক নিজে ছবিটিকে ‘মিথ্যা ও বিরক্তিকর’ বলে দাবি করলেও, সমালোচকরা একে তাঁর জীবনের সবচেয়ে নির্মম সিনেমাটিক পাঠ বলছেন।
তথ্যচিত্রটিতে উঠে আসা মূল বিষয়গুলো:
-
ক্ষমতার চরম কেন্দ্রীভবন: ডটকম যুগ, পেপাল থেকে শুরু করে স্পেসএক্স ও টেসলার সাফল্যের পর কীভাবে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রাজনীতির ওপর মাস্কের একক প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে, তা তুলে ধরেছেন গিবনি। গিবনির মতে, এত ক্ষমতা একজন মানুষের হাতে চলে যাওয়া গণতন্ত্রের জন্যই বিপজ্জনক।
-
রাজনীতি ও ভয়: ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) কেনা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং মার্কিন রাজনীতিতে মাস্কের প্রভাব বিস্তারিতভাবে এসেছে। রয়টার্সকে গিবনি জানান, মাস্কের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে তাঁর ঘনিষ্ঠ অনেকেই ভয় পান, যা ছবিটিকে ক্ষমতা ও জবাবদিহির গল্পে রূপ দিয়েছে।
-
এআই-এর মাধ্যমে উপস্থাপন: মাস্ক নিজে কোনো সাক্ষাৎকার না দেওয়ায়, নির্মাতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে স্ক্রিনে মাস্কের একটি ডিজিটাল অবতার তৈরি করেছেন। মাস্কের পুরোনো বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার থেকেই সেই অবতারের কথাগুলো সাজানো হয়েছে।
প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বকে বদলানো ভবিষ্যতের এক স্বপ্নদ্রষ্টা, নাকি জবাবদিহিহীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক—ইলন মাস্কের এই দ্বিমুখী রূপটিকেই বড় পর্দায় তুলে ধরে নতুন প্রশ্ন উসকে দিয়েছে তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’।
