ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সেনা: অবসান ২৩ বছরের অধ্যায়ের

ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সেনা: অবসান ২৩ বছরের অধ্যায়ের

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

সুদীর্ঘ ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতি ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে ইরাক থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার সম্পন্ন করল যুক্তরাষ্ট্র। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশটির ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন সেনাদের সর্বশেষ দলটি প্রস্থান করেছে, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে মার্কিন সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক পটুয়াট উন্মোচিত হলো।

তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা এই সেনা প্রত্যাহারকে ঐতিহাসিক ‘বিজয়’ হিসেবে ঘোষণা করলেও, মূলত ২০২৪ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত চুক্তির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছিল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই সময়সীমা অনুযায়ী প্রক্রিয়াটির পূর্ণ বাস্তবায়ন করলেন।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইরাকে আইএস-বিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ঘটায় ৩০ সেপ্টেম্বরের চূড়ান্ত সময়সীমার মধ্যেই দেশের ভূখণ্ড থেকে সকল বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে ইরাকের মাটিতে কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না, যা দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারে এক নতুন মাইলফলক।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক পরস্পর সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে অর্থনীতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নতুন যৌথ অংশীদারিত্বের দিকে মনোযোগ দেবে।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করার লক্ষ্যে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। ওই বছরের শেষের দিকে সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার হন এবং ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে সাদ্দাম-পরবর্তী অস্থিরতায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঘটলে তাদের নির্মূলে দীর্ঘায়িত হয় মার্কিন সামরিক মিশন। দীর্ঘ সময় ধরে ৪ হাজার ৫০০ জনের মতো সেনা সেখানে অবস্থান করলেও ২০২০ সালের পর থেকে ধাপে ধাপে তা কমিয়ে আনা হয়।

যদিও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, তথাপি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর নতুন করে সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো পুনরায় সংগঠিত হতে পারে কিনা—তা নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মনে শঙ্কা রয়ে গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি এই প্রসঙ্গে সতর্ক করে জানান, দীর্ঘ দু’দশকের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নিরাপত্তায় যেকোনো আকস্মিক শূন্যতা চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে