ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ: নেপথ্যে কী কারণ?

ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ: নেপথ্যে কী কারণ?

বিনোদন ডেস্ক:

মুম্বাইয়ে এক স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তীব্র আইনি সংকটে পড়েছেন বলিউড তারকা আমির খানের ভাগ্নে ও অভিনেতা ইমরান খান। মার্কিন নাগরিকত্ব এবং ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী হওয়ার পর কীভাবে তিনি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা কিরিট সোমাইয়া। সোমাইয়ার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ইমরান খানকে ভারত ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১০ অক্টোবর ২০২৬। ওই দিন মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আয়োজনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই বিক্ষোভে সাধারণ শত শত মানুষের সাথে সশরীরে অংশ নেন ইমরান খান।

সমাবেশ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইমরান খানসহ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। যদিও ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

বিজেপি নেতার অভিযোগ ও বহিষ্কারের দাবি

পরবর্তীতে সাবেক বিজেপি সংসদ সদস্য কিরিট সোমাইয়া অভিযোগ আনেন যে, জন্মসূত্রে ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং তিনি কার্ডধারী একজন ওসিআই (OCI)। ভারতীয় অভিবাসন আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক বা ওসিআই কার্ডধারী ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিক্ষোভ বা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।

কিরিট সোমাইয়া অবিলম্বে ইমরানের ওসিআই কার্ড বাতিল, আইনি গ্রেপ্তার এবং তাকে ভারত থেকে বহিস্কারের (Deportation) দাবি জানিয়ে গামদেবী থানায় আবেদন করেন। থানা থেকে বিষয়টি দ্রুত ‘ফরেনার্স রিজিনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস’ (এফআরআরও)-এ স্থানান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে তদন্ত চলাকালে ইমরান যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে জন্য তার বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার (এলওসি) জারির আবেদন জানান এই বিজেপি নেতা।

অভিনেতার বক্তব্য ও পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ

বিতর্কের মুখে অভিনেতা ইমরান খান জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বা সদস্য হিসেবে কর্মসূচিতে যাননি; বরং নাগরিক ও ব্যক্তিগত নাগরিক সচেতনতার জায়গা থেকে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা এবং চলাচলের ওপর অন্যায্য বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অন্যদিকে, ইমরানের সহধর্মিনী ও অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন এবং অভিনেত্রী জেইন মেরি খান অভিযোগ করেছেন যে, আটকের সময় মুম্বাই পুলিশ তাদের সাথে চরম উগ্র আচরণ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে, যার ফলে তাঁদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট রয়েছে।

ওসিআই বিধিমালা ও আইনি জটিলতা

উল্লেখ্য, ভারতীয় আইনানুযায়ী ওসিআই (Overseas Citizen of India) কার্ডধারীরা ভারতে অনির্দিষ্টকাল বসবাস ও ব্যবসার সুযোগ পেলেও তাঁদের পূর্ণ নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার থাকে না। একই সাথে তাঁদের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয়। এই ঘটনার পর বিদেশি বা দ্বৈত নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার এবং ভারতের অভিবাসন আইনের কঠোর প্রয়োগ নিয়ে পুরো বলিউড ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তুমুল চর্চা ও তর্ক শুরু হয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে