ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » আশঙ্কাজনক হারে কমছে এইচআইভির ওষুধ, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

আশঙ্কাজনক হারে কমছে এইচআইভির ওষুধ, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক সাহায্য তহবিল আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এইচআইভি (এইডস) সনাক্তকরণের র্যাপিড টেস্ট কিট ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট। ‘আন্তর্জাতিক পরিকল্পিত পিতৃত্ব সংস্থা’ (আইপিপিএফ)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে ৪০টি দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের এই উদ্বিগ্নজনক ও আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে।

প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, গত বারো মাসে গবেষণায় অংশ নেওয়া সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ধেকেরও বেশি বা ৫৫ শতাংশ সংস্থা কোনো না কোনো সময় প্রয়োজনীয় ওষুধের মারাত্মক ঘাটতিতে পড়েছে। বিশেষ করে এইচআইভি সংক্রমণ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত র্যাপিড টেস্ট কিট এবং প্রাক-সংক্রমণ প্রতিরোধক ওষুধ ‘প্রিপ’ (PrEP)-এর সরবরাহ একেবারেই তলানিতে এসে ঠেকেছে।

এই পরিস্থিতিকে চরম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন আইপিপিএফ আফ্রিকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মালা তাবোত। তিনি সতর্ক করে জানান, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়লে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, এই সংকট তারই প্রমাণ দিচ্ছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বহু দশকের নিরলস প্রচেষ্টায় এইচআইভি মোকাবিলায় যে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছিল, তা স্রেফ উপকরণের ঘাটতির কারণে নস্যাৎ হতে দেওয়া যায় না। এটি কোনো দূর ভবিষ্যতের হুমকি নয়, বরং বর্তমানেই বিভিন্ন দেশে নতুন করে সংক্রমণ বাড়ছে এবং মানুষের জীবনহানি ঘটছে।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, অংশ নেওয়া সদস্য সংস্থাগুলোর মধ্যে এইচআইভি পরীক্ষার কিট নিয়েই সংকট সবচেয়ে প্রকট। অংশগ্রহণকারী প্রায় সব সংস্থা পরীক্ষা সেবা চালু রাখলেও ১৭টি সংস্থায় বর্তমানে টেস্ট কিটের স্টক অত্যন্ত কম এবং ৫টি সংস্থায় কোনো টেস্ট কিটই আর অবশিষ্ট নেই। ফলে অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠান এখন নিয়মিত এইচআইভি পরীক্ষা সেবা দিতে পারছে না।

একই সাথে ১২টি সংস্থা মুখে খাওয়ার এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে নেওয়ার ‘প্রিপ’ ওষুধের তীব্র ঘাটতির কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি আরব বিশ্ব, এশিয়া ও ওশেনিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে কনডম ও অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির মতো মৌলিক উপকরণগুলোর সরবরাহও অত্যন্ত অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

আইপিপিএফ-এর এইচআইভি বিষয়ক উপদেষ্টা লোরি মিলার মন্তব্য করেন, আক্রান্ত রোগীদের কাছে পৌঁছানোর মতো প্রয়োজনীয় ক্লিনিক নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল প্রযুক্তি অবকাঠামো, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী এবং মানুষের আস্থা—সব সুবিধা থাকা সত্ত্বেও উপকরণ ও পণ্যের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে সমগ্র প্রতিরোধমূলক প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিগত বছরে বিশ্বজুড়ে আনুমানিক চার কোটি নয় লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে জীবনযাপন করছিলেন। ওই এক বছরেই এইডসজনিত জটিলতায় সারা বিশ্বে প্রায় পাঁচ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও ১২ লাখ মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। সাহায্য তহবিলে প্রায় ২৩ শতাংশ বরাদ্দ ছাঁটাই করায় বিশ্বজুড়ে এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রম মুখ থুপড়ে পড়েছে। অর্থায়নের এ ঘাটতির কারণে বৈশ্বিক এইচআইভি মহামারী নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে