ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » আলোকিত পঁচিশে বৈশাখ: বিশ্বজুড়ে কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপিত

আলোকিত পঁচিশে বৈশাখ: বিশ্বজুড়ে কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ’— এই চিরন্তন আবাহনের মধ্য দিয়ে আজ উদ্‌যাপিত হচ্ছে বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রধান কাণ্ডারি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের (১২৬৮ বঙ্গাব্দ) এই মাহেন্দ্রক্ষণে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর কোল আলো করে জন্মেছিলেন সাহিত্যের এই মহীরুহ। তাঁর লেখনী বাঙালিকে দিয়েছে ভাষা, শিখিয়েছে বিশ্বজনীনতা আর যুগিয়েছে সংকটে ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য সাহস।

 

আজকের দিনটি সরকারি ছুটি না হলেও জাতীয়ভাবে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় দিনব্যাপী বিশেষ সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বাংলা একাডেমি এবং জাতীয় জাদুঘর কবিগুরুর দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ও আলোকচিত্র নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে।

 

রবীন্দ্রনাথের কর্মজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে বাংলাদেশে। তাঁর স্মৃতিধন্য স্থানগুলোতে আজ উপচে পড়া ভিড়:
* শিলাইদহ কুঠিবাড়ি (কুষ্টিয়া): পদ্মার তীরের এই কুঠিবাড়িতেই কবিগুরু তাঁর শ্রেষ্ঠ অনেক রচনা ও ‘গীতাঞ্জলি’র অনুবাদ করেছিলেন। আজ সেখানে তিন দিনব্যাপী ‘রবীন্দ্র মেলা’ শুরু হয়েছে। স্থানীয় লোকজ শিল্পীদের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে বাউল ও রবীন্দ্র সংগীতের সুর।

 

* পতিসর (সিরাজগঞ্জ): কবির জমিদারি কেন্দ্র পতিসরে আয়োজিত হয়েছে আলোচনা সভা ও গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। কৃষকদের উন্নয়নের জন্য তাঁর নেওয়া সমবায় ভাবনার ওপর ভিত্তি করে এখানে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
* শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): শাহজাদপুর কাচারি বাড়িতে কবির ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও স্মৃতিচিহ্ন দেখতে আজ হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে।

 

 

• খুলনার দক্ষিণডিহি খুলনার ফুলতলায় অবস্থিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি, যা বর্তমানে দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স নামে পরিচিত। খুলনা শহর থেকে ১৯ কি.মি. দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক বাড়িটি কবিপত্নী মৃণালিনী দেবীর পৈতৃক ভিটা এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, যেখানে প্রতি বছর রবীন্দ্রজয়ন্তী উৎসব পালন করা হয়।

 

প্রতি বছর পঁচিশে বৈশাখে (৮ মে) রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এখানে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করে।

 

 

ছায়ানটের রবীন্দ্র-উৎসব
প্রতিবছরের মতো এবারও রমনা বটমূল ও ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ প্রভাতী অনুষ্ঠান। বর্ষীয়ান শিল্পীদের রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশনা এবং কবিতার আবৃত্তি রাজধানীজুড়ে এক স্নিগ্ধ আবহের সৃষ্টি করে। ছায়ানটের শিল্পীরা তাদের বৃন্দগানে কবির ‘প্রকৃতি’ ও ‘প্রেম’ পর্যায়ের গানগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশন করেন।

 

বিশ্বায়ন ও রবীন্দ্র-দর্শন
বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতার বিপরীতে রবীন্দ্র-দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র-গবেষকরা। তাঁদের মতে, রবীন্দ্রনাথ কেবল বাঙালির নন, তিনি ছিলেন বিশ্বমানবতার কণ্ঠস্বর। পরিবেশ রক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং আধুনিক শিক্ষার প্রসারে তাঁর যে দর্শন (বিশেষ করে শান্তিনিকেতনের শিক্ষা ব্যবস্থা), তা আজও সমসাময়িক এবং অনুকরণীয়।

 

সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতে প্রভাব
টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আজ দিনভর প্রচার করছে কবির নাটক, গান ও সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র। বিশেষ করে ‘রক্তকরবী’, ‘ডাকঘর’ ও ‘বিসর্জন’-এর মতো নাটকগুলো নতুন আঙ্গিকে মঞ্চস্থ হচ্ছে বিভিন্ন নাট্যদলের মাধ্যমে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র, যেখানে উঠে এসেছে কবির জীবনের অজানা নানা দিক।

 

 

রবীন্দ্রনাথ বাঙালির কাছে কেবল একজন কবি নন, তিনি এক চিরকালীন আশ্রয়। আনন্দ, বেদনা, প্রতিবাদ কিংবা শান্তিতে—বাঙালির একমাত্র ভরসা তাঁর সৃষ্টি। কবির ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীর এই শুভ ক্ষণে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর দর্শন পৌঁছে দেওয়াই হোক আজকের দিনের প্রধান অঙ্গীকার।

“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি, বিচিত্র ছলনাজালে হে ছলনাময়ী।”— এই সত্যকে ধারণ করেই বাঙালির শিল্পসত্তা আজ প্রণতি জানাচ্ছে তার প্রিয় কবিকে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে