ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » অমিত শাহকে টেনেহিঁ’চড়ে বের করার হুঁ’শিয়া’রি কংগ্রেস প্রধানের

অমিত শাহকে টেনেহিঁ’চড়ে বের করার হুঁ’শিয়া’রি কংগ্রেস প্রধানের

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থী আন্দোলনে পুলিশের অতর্কিত লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহারের ঘটনায় সরকারের ওপর চরম আক্রমণ চালিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির সর্বভারতীয় সভাপতি ও রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লক্ষ্য করে বলেছেন, তিনি চিরকাল দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারবেন না; পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছাবে যে জনগণ তাঁকে ‘টেনেহিঁচড়ে বের করে আনবে’। কংগ্রেস প্রধানের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যসভা।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজ্যসভার অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় দিল্লির সহিংস পুলিশি অ্যাকশন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মল্লিকার্জুন খাড়গে।

তিনি বলেন, দেশের দূরদূরান্ত থেকে আসা নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে পেলেট গান ও লাঠি চালানো হয়েছে। পুলিশের হামলায় এক শিক্ষার্থীর চোখ নষ্ট হয়েছে, কেউ কান হারিয়েছেন, আবার কারও হাত ভেঙে গেছে। এই নির্মমতার দায়ভার কার? এই ঘটনার পুরো দায়ভার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই নিতে হবে।

সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গত ২০ জুলাই সর্বভারতীয় ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে সর্বাত্মক আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। সে সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপক চড়াও হয় দিল্লি পুলিশ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী সংসদ সদস্যদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর এই ধরনের প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের নির্দেশ সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।

অধিবেশনে অমিত শাহর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খাড়গে আরও বলেন, “আপনি হয়তো বন্ধ দরজার ওপারে বসে আমার কথা শুনছেন। তবে মনে রাখবেন, একটি বন্ধ ঘরে আপনি চিরকাল আত্মগোপন করে থাকতে পারবেন না। এমন একদিন আসবে যখন দেশের মানুষ আপনাকে ওখান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনবে।”

কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সঙ্গে সঙ্গে বক্তব্য থামিয়ে দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। স্পিকারকে উদ্দেশ করে নাড্ডা অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা অত্যন্ত ‘অসংসদীয় ও উসকানিমূলক’ ভাষা ব্যবহার করছেন, যা সংসদের শিষ্টাচারকে ক্ষুণ্ন করে।

এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উচ্চকক্ষে বিজেপি ও বিরোধী আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র হট্টগোল ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে খাড়গে তাঁর বক্তব্যের স্পষ্টীকরণ দিয়ে বলেন, তিনি কোনো অসংসদীয় শব্দ প্রয়োগ করেননি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, আমি ‘আমরা’ বলতে দেশের সাধারণ জনশক্তিকে বুঝিয়েছি—যার মধ্যে নিপীড়িত সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও নারীরা রয়েছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে বের করার কথা বলিনি; বুঝিয়েছি জনগণের শক্তি তাঁকে টেনে বের করবে। মূল বিষয় থেকে দৃষ্টি না সরিয়ে অভিযোগের জবাব দিন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করা হলেও গত ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক কাটেনি, বরং এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে বিষয়টি নতুন রূপ নিয়েছে। পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার একটি জেনারেল ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে জানা গেছে, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) এক ডেপুটি কমান্ডার স্বীকার করেছেন, দিল্লি পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার নির্দেশেই সেদিন শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে অন্তত দুই রাউন্ড পেলেট বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে পুলিশ ধাতব পেলেট ব্যবহার করেছিল নাকি প্লাস্টিক পেলেট, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে