বিনোদন ডেস্ক:
“বেছে বেছে কাজ করছি। নাটকের গল্প দেখে বুঝেশুনে সেই কাজে যুক্ত হচ্ছি। সত্যি কথা বলতে গল্প ভালো হলে আমি সব ধরনের গল্পে অভিনয় করতে চাই। বিশেষ করে যেসব গল্পে চ্যালেঞ্জ আছে, সেই গল্পগুলো এখন আমাকে বেশি টানে।”—নিজের অভিনয়ভাবনা ও ক্যারিয়ারের বর্তমান কৌশল নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খান।
এক দশকের বেশি সময় মঞ্চনাটকে অভিনয় করে নিজেকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন আরশ। পরিবারের সহযোগিতা ও মায়ের অনুপ্রেরণায় বারবার হোঁচট খাওয়ার পরও থেমে থাকেননি তিনি। বর্তমানে টেলিভিশন ও ইউটিউব নাটকের অন্যতম ব্যস্ত মুখ তিনি, পাশাপাশি মনের মতো চিত্রনাট্য পেলে নিয়মিত উঁকি দিচ্ছেন ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও।
দেড় মাসে ডজনখানেক নাটক ও ওটিটিতে প্রশংসা
গত দেড় মাসে আরশ খানের অভিনীত প্রায় ডজনখানেক নাটক মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ‘প্রেম হলো দেরিতে’, ‘আহা একি মায়া’, ‘হঠাৎ ঝুম’, ‘তুমি এসেছিলে পর’, ‘আশিক প্রিয়া’, ‘বাজি’, ‘মায়ারে’, ‘পরিণতি’, ‘বউ পালানোর পরে’, ‘অভিযোগ ছিল না’, ‘তুই আমার শুরু’, ‘তুমি এসেছিলে পরশু’ এবং ‘দাদি ভয়ংকর’ উল্লেখযোগ্য। মুক্ত পাওয়া নাটকগুলোর সিংহভাগই ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা কুড়িয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে আরাফাত মহসীন নিধির পরিচালনায় ওটিটি সিরিজ ‘আঁতকা’-তে অভিনয় করে ওটিটি মাধ্যমেও নিজের সুসংহত অবস্থান জানান দেন আরশ। তবে ওটিটির স্ক্রিপ্ট বাছাইয়ে এখন বেশ সতর্ক তিনি।
আরশের ভাষ্য, “ওটিটিতে চ্যালেঞ্জিং কাজ করতে চাই। কিন্তু বর্তমানে যে গল্পগুলো আসছে, সেগুলোতে নিজের মন ভরছে না। চ্যালেঞ্জিং চরিত্র এবং যোগ্য নির্মাতা পেলে তবেই ওটিটিতে নতুন কাজ করব।”
নাটকের গুণগত মান ও নিজের দায়বদ্ধতা
নাটকের বর্তমান অবস্থা ও মানের বিষয়ে নানাজনের সমালোচনা নিয়ে আরশ জানান, দর্শক সব সময় বিভিন্ন স্বাদের গল্প দেখতে ভালোবাসেন। তাঁর মতে, “সবার বাছ-বিচারের স্বাধীনতা আছে। এত কিছুর মাঝেও দর্শক আমার কাজ দেখছেন এবং প্রশংসা করছেন—একজন অভিনেতা হিসেবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
নিজের কাজের প্রতি আত্ম সমালোচনা ধরে রেখে তিনি আরও বলেন, “মাঝে কিছু কাজ করেছি যেখানে দর্শক ভালো বললেও আমার নিজের মন ভরেনি। ভালো কাজের ক্ষুধা আমার কখনও মেটে না। এখন যে নাটকগুলোতে সমাজকে ভালো বার্তা দেওয়া যায়, সেগুলোকে কাজ হিসেবে বেশি প্রাধান্য দেব।”
‘আমি এখনও অপরিপূর্ণ’
নিজেকে এখনও একজন পরিপূর্ণ অভিনেতা হিসেবে ভাবেন না এই শিল্পী। জীবনের অপূর্ণতাকেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার চালিকাশক্তি মনে করেন তিনি।
অভিনয় জীবনের দর্শন ব্যাখ্যা করে আরশ খান বলেন, “নিজের সর্বোচ্চ এফোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করি। কোনো কাজে সফল হই, কোনো কাজে প্রত্যাশা পূরণ হয় না। সব মিলিয়ে আমি এখনও সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি, যেখানে একজন পরিপূর্ণ অভিনেতার থাকা উচিত। কারণ আমি অপরিপূর্ণ। মানুষ যত দিন অপূর্ণ থাকে, তত দিনই বেঁচে থাকার ও নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ থাকে।”
পানির মতো পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ধারণায় বিশ্বাসী এই অভিনেতা চান কাজের প্রতি নিজের শতভাগ সততা ধরে রেখে প্রতিদিন নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে।
