নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন লেখালেখির মাধ্যমে আলোচিত-সমালোচিত লেখক জাহিদ হাসানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ধর্ম, সমাজ ও লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে তার লেখনী জনপরিসরে আলোচনা সৃষ্টি করে আসছে। তবে তিনি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সিলেটের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া জাহিদ হাসান শিক্ষাজীবনেই লেখালেখির মাধ্যমে পরিচিতি পান। তিনি সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা যায়। গত কয়েক বছরে তার কিছু লেখা ও মতামত ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমন অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়।
২০২৪ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরবর্তীতে আইনগত কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্যান্য মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত তার নতুন বই *“শরীয়ার ধারণাগত কাঠামোগত দ্বন্দ্ব ও অদৃশ্য ফাটল”* ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে বইটি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন।
এদিকে বইটি প্রকাশের পর ঢাকা ও সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিছু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সংগঠন লেখকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।অন্যদিকে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার প্রশ্নে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এ ধরনের বিতর্কিত লেখালেখি সমাজে মতবিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করলেও তা যেন আইন ও সামাজিক সম্প্রীতির সীমার মধ্যে থাকে, সে বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি।
বর্তমানে জাহিদ হাসানের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সমগ্র ঘটনাপ্রবাহে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং আইনের শাসন—এই তিনটি বিষয় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।
