ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » ৭০ বছরেও ‘চিরসবুজ’ জিনা ডেভিস:অনস্ক্রিনে প্রেম তরুণ অভিনেতার সঙ্গে!

৭০ বছরেও ‘চিরসবুজ’ জিনা ডেভিস:অনস্ক্রিনে প্রেম তরুণ অভিনেতার সঙ্গে!

বিনোদন ডেস্ক: বয়স কেবলই একটি সংখ্যা—এই প্রচলিত কথাটিকে আরও একবার সত্য প্রমাণ করলেন হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী জিনা ডেভিস। সাধারণত হলিউডে পঞ্চাশোর্ধ নারীদের মূল ধারার অভিনয় থেকে দূরে সরে যেতে দেখা গেলেও, ৭০ বছর বয়সে এসে জিনা ডেভিস যেন এক নতুন জোয়ারে ভাসছেন। বার্ধক্যের ভয়কে জয় করে তিনি শুধু অনস্ক্রিনেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন না, বরং এই বয়সে এসেও হয়ে উঠেছেন আজকের ‘জেন-জি’ (Gen Z) প্রজন্মের এক অন্যতম জনপ্রিয় আইকন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তিনি নিজেকে আরও বেশি ভালোবাসতে শুরু করেছেন এবং প্রতি বছর নিজেকে আরও বেশি আকর্ষণীয় মনে করছেন!

 

‘প্রতি বছর নিজেকে আরও সুন্দর মনে হয়’
বার্ধক্য নিয়ে সমাজের চিরাচরিত নেতিবাচক ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অস্কারজয়ী এই তারকা বলেন, “আমি মনে করি এই বয়সটা দারুণ। প্রতি বছর আমি নিজেকে আরও বেশি পছন্দ করছি। এমনকি আমার মনে হয়, আমি প্রতি বছর দেখতে আরও বেশি সুন্দর হচ্ছি! জানি না এই অনুভূতি কোনো এক সময় বদলে যাবে কি না। হয়তো বদলাবে না। তবে জীবনকে এভাবে উপভোগ করাটা সত্যিই মজার। এই বয়সে এসে বয়স নিয়ে আর কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।”

 

নেটফ্লিক্সের ‘দ্য বারোজ’ এবং এক অদম্য রেনী
জিনা ডেভিসের এই বাস্তব জীবনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে হুবহু মিলে গেছে নেটফ্লিক্সের নতুন সায়েন্স-ফিকশন সিরিজ ‘দ্য বারোজ’ (The Boroughs)-এ তাঁর অভিনীত চরিত্রটি। সিরিজে তিনি ‘রেনী’ নামের এক আত্মবিশ্বাসী ও আধুনিক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি একটি অবসরকালীন প্রবীণ আবাসে (Senior Community) থাকেন। তবে সেই আবাসের একটি অন্ধকার রহস্য উদঘাটিত হওয়ার পর, সেখানকার বাসিন্দারা প্রমাণ করেন যে অবসর নেওয়ার পরও তাঁরা কতটা শক্তিশালী ও ভয়ঙ্কর হতে পারেন।

 

নিজের চরিত্র সম্পর্কে ডেভিস বলেন, “রেনীর বয়স হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সে এখনো পুরোপুরি অপরিবর্তিত। সে এখনো জীবনের সেরা সময় কাটাচ্ছে। সে মনে করে এই রিটায়ারমেন্ট কমিউনিটিতে সে আসলে মানানসই নয়, কারণ সে নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে খুব ভালো করেই সচেতন।”

পর্দায় ৩০ বছরের ছোট অভিনেতার সঙ্গে রোম্যান্স

জিনা ডেভিস মনে করেন, হলিউডে ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের রোম্যান্স বা সম্পর্কের গল্প দেখানোর ক্ষেত্রে এক ধরণের রক্ষণশীলতা রয়েছে, যা ভাঙা দরকার। এই সিরিজে তাঁর চরিত্রের প্রেমের বিষয়টি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সিরিজে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা কার্লোস মিরান্ডা, যিনি বাস্তব জীবনে জিনা ডেভিসের চেয়ে প্রায় ৩০ বছরের ছোট!

 

হলিউডের ইতিহাসে সাধারণত বয়স্ক পুরুষদের সাথে তরুণী নারীদের প্রেম দেখানোটা স্বাভাবিক বিষয় হলেও, এবার তার উল্টোটা পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন ডেভিস। অনস্ক্রিন পার্টনার মিরান্ডাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ডেভিস বলেন, “ও পর্দার বাইরেও একজন চমৎকার মানুষ। আমরা একসাথে দারুণ সময় কাটিয়েছি এবং সত্যি বলতে, ও দেখতে ভীষণ কিউট।”

 

প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত তথ্য:
১. জিনা ডেভিস ইনস্টিটিউট: পর্দায় নারীদের সঠিক এবং সমতাভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের জন্য জিনা ডেভিস ২০০৪ সালে ‘জিনা ডেভিস ইনস্টিটিউট অন জেন্ডার ইন মিডিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে তাঁর এই প্রতিষ্ঠান হলিউডের চলচ্চিত্রে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে।
২. দ্য বারোজ-এর নির্মাতা দল: নেটফ্লিক্সের এই বহুল প্রতীক্ষিত সিরিজটির নেপথ্যে রয়েছেন বিশ্বখ্যাত ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ (Stranger Things) সিরিজের নির্মাতারা, যার ফলে জিনা ডেভিসের এই নতুন সাই-ফাই প্রজেক্টটি নিয়ে ইতিমধ্যেই ওটিটি দুনিয়ায় ব্যাপক হাইপ তৈরি হয়েছে।
৩. অস্কারের গৌরব: ১৯৮৮ সালে ‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল ট্যুরিস্ট’ সিনেমার জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতার পাশাপাশি জুডিশিয়াল ও সামাজিক কাজের জন্য ২০১৯ সালে একাডেমি কর্তৃপক্ষ তাঁকে সম্মানসূচক ‘জিন হারশোল্ট হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে