ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ৩৫ রুপি থেকে ৩ কোটি: এক রূপকথা-সম নায়ক

৩৫ রুপি থেকে ৩ কোটি: এক রূপকথা-সম নায়ক

বিনোদন ডেস্ক:

ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী ও কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকার মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে ভারতের গোয়ায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ভারতীয় চলচ্চিত্রে কোনো রকম পারিবারিক যোগাযোগ বা ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া নিছক নিজস্ব অভিনয় প্রতিভা, স্বকীয় সংলাপ ধরন এবং কঠোর সংগ্রামের জোরে তিনি রূপালী জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

দারিদ্র্য থেকে সাফল্যের শিখরে

নানা পাটেকারের শৈশব ও কৈশোর ছিল চরম দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতায় ভরা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মরণ করেছিলেন তাঁর সেই কষ্টের দিনগুলোর কথা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় পরিবারের আর্থিক ধসের কারণে তাঁকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। স্কুল শেষে প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টিতে গিয়ে সিনেমার পোস্টার আঁকার কাজ করতেন তিনি। সেখান থেকে মাসে পেতেন মাত্র ৩৫ রুপি এবং সারাদিনে কেবল একবার খাওয়ার সুযোগ হতো। সেই চরম বুভুক্ষু দিনগুলোর অভিজ্ঞতা সারাজীবন তাঁর মূল্যবোধকে পরিচালিত করেছে।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালী পর্দায় প্রথম কাজ শুরু করেন নানা পাটেকার। পরবর্তীতে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি অন্যতম সম্মানিত ও দাপুটে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নি সাক্ষী’, ‘আব তাক ছাপ্পান’, ‘নটসম্রাট’ এবং জনপ্রিয় কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন তিনি।

প্রাচুর্যের মাঝেও অনাড়ম্বর জীবন

ক্যারিয়ারের সাফল্যের পাশাপাশি নানা পাটেকারের আর্থিক সামর্থ্য বহুগুণ বাড়লেও বিলাসিতা তাঁকে কখনোই আকৃষ্ট করতে পারেনি। জীবনের শেষ সময়ে প্রতি ছবিতে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেওয়া এই অভিনেতার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ কোটি রুপি। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের সাদামাটা জীবনযাপনের জন্যই পরিচিত ছিলেন।

মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে মাত্র ১.১ লাখ রুপিতে কেনা একটি ৭৫০ বর্গফুটের এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে বছরের পর বছর বাস করেছেন তিনি, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি। এ ছাড়া গোয়ায় তাঁর একটি বাড়ি এবং পুনের খাদকওয়াসলার কাছে ২৭ একরের একটি কৃষি খামারবাড়ি ছিল, যেখানে তিনি নিজে গম ও ধানের চাষ করতেন। দামি বিলাস বহুল গাড়ির প্রতিও তাঁর মোহ ছিল না; তিনি সাধারণ মাহিন্দ্রা জিপ (CJ4), মাহিন্দ্রা স্করপিও এবং একটি অডি কিউ-৭ ব্যবহার করতেন। এমনকি ১.৫ কোটি রুপির বিলাসবহুল গাড়ি কেনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে সেই অর্থ দিয়ে মহারাষ্ট্রের দুর্দশাগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

নানা পাটেকারের কাছে দারিদ্র্য থেকে প্রাচুর্যের এই দীর্ঘ যাত্রা কেবল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসেব ছিল না। শুরুর দিকের অভাব ও কঠিন বাস্তবতা তাঁকে জীবনের প্রকৃত অর্থ, খাবার এবং সাফল্যকে সম্মান করার শিক্ষা দিয়েছিল। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন ও সাধারণ অনুরাগী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে