বিনোদন ডেস্ক
২০২৫ সালে ‘সাইয়ারা’ সিনেমার সাফল্যের পর বেশ কিছুদিন প্রচারের আলো থেকে দূরে ছিলেন অভিনেতা অনীত পাড্ডা। সম্প্রতি ‘হুঙ্কার: দ্য রোর’ সিরিজের ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আবারও গণমাধ্যমের সামনে হাজির হন তিনি। ‘সাইয়ারা’র পর এটিই তাঁর প্রথম প্রচারমূলক আয়োজন হওয়ায় অনীতকে ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ।
অনুষ্ঠানে অনীতের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ফাতিমা সানা শেখ, রঘুবীর যাদব, জোয়া হুসেন, মোহাম্মদ জিশান আয়ুব এবং পরিচালক নিত্যা মেহরা। কবিতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া আয়োজনে পরে সিরিজটির গল্প ও নিজের চরিত্র নিয়ে কথা বলেন অনীত।
‘হুঙ্কার’ সিরিজের বিষয়বস্তুই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে বলে জানান অভিনেতা। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত কোনো অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এলে সেটিকে ঘিরে চারপাশের মানুষের নানা মন্তব্য ও বিচার একসময় সেই অভিজ্ঞতার অর্থই বদলে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মানুষ নিজের সত্য নিয়েও দ্বিধায় পড়ে যেতে পারেন।
সিরিজে অনীতের চরিত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোরী মীনু রাওয়াত। জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ ঘটনার পর মীনুকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যার অর্থ সে নিজেই তখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি। তবু তাকে সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে হয়।
মীনুর বয়স অনীতের নিজের বয়সের কাছাকাছি হওয়ায় চরিত্রটির সঙ্গে কিছুটা সহজেই সংযোগ তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে গল্পের সংবেদনশীল বিষয়বস্তু বুঝে চরিত্রটিকে ধারণ করা তাঁর জন্য সহজ ছিল না।
চিত্রনাট্য পড়ার সময় মীনুর মানসিক দ্বন্দ্বও অনীতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। অন্যদের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির চাপে নিজের বক্তব্য নিয়েও তাঁর মধ্যে এক ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল বলে জানান অভিনেতা।
অনীতের কাছে মীনু শুধু একটি ঘটনার শিকার কিশোরী নয়; বরং ঘটনার পর সে কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেটিই চরিত্রটির গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাঁর মতে, মীনুর আচরণে অনেক জটিলতা থাকলেও একটি বিষয়ে সে দৃঢ়—নিজের কথা বলতে সে পিছপা হয় না।
চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে অভিনয় কর্মশালাতেও অংশ নেন অনীত। সেখানে তাঁকে মীনুর পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন করা হয়। ভয়, রাগ, অনিশ্চয়তা ও দৃঢ়তার মতো বিভিন্ন অনুভূতির মধ্য দিয়ে সেই প্রস্তুতি এগোয়। পরবর্তী সময়ে সিরিজে সেই অভিজ্ঞতার কিছুটা প্রতিফলনও দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
