নবপ্রকাশ ডেস্ক:
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতিতে নতুন করে শঙ্কা বাড়ছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৯ জনে। অপরদিকে, একই সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আরও ১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ময়মনসিংহ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলাভিত্তিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।
হাম পরিস্থিতি: মোট আক্রান্ত ২ লাখ ২৫ হাজার ছাড়াল
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৬৮ শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৮১ জনের দেহে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৯০ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ১ জন করে মোট ৩ শিশু মারা গেছে। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৫৭ জন হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট ১ হাজার ১৪৭ শিশুর মৃত্যু হলো। এর মধ্যে ১০৪ জনের নিশ্চিত হামে এবং বাকি ১ হাজার ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৭ শিশুর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৫ জন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি: এ বছর মোট মৃত্যু ২৯৫
কন্ট্রোল রুমের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩০০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ৯ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৮৩১ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫১ জনে এবং সার্বিক মৃত্যু হয়েছে ২৯৫ জনের।
জেলাভিত্তিক ডেঙ্গু চিত্র
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন—নান্দাইলের মিনহাজ (১৮), ফুলবাড়িয়ার হারিছা বেগম (৬৫) এবং টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর মরিয়ম (৪৫)। বর্তমানে হাসপাতালটির ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে ১২৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে মুসকান আরা মিম (১৬) নামে এক কিশোরীর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের আরএমও ড. মাহবুব হাসান জানান, বুধবার রাতে ভর্তি হওয়া মিমের অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার শেষ রাতে সে মারা যায়।
