ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » সৌদি প্রবাসীকে হত্যা করে মরদেহ ৮ খণ্ড, গ্রেফতার মা-মেয়ে

সৌদি প্রবাসীকে হত্যা করে মরদেহ ৮ খণ্ড, গ্রেফতার মা-মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়া (৩৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। পরকীয়া সম্পর্ক, অর্থ লেনদেন ও আপত্তিকর ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ঘটনায় প্রধান আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে (১৩) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে র‍্যাব-৩ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৩ এর স্কোয়াড্রন লিডার মোঃ সাইদুর রহমান।

র‍্যাব জানায়, নিহত মোকাররম মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। একই গ্রামের আরেক প্রবাসী সুমনের মাধ্যমে সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার হাসনার সঙ্গে মোকাররমের পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, সম্পর্কের সূত্র ধরে মোকাররম বিভিন্ন সময়ে তাসলিমাকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেন। সম্প্রতি টাকার বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন মোকাররম। দেশে ফিরে কাউকে কিছু না জানিয়ে ঢাকায় এসে ওঠেন তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগমের মান্ডার ভাড়া বাসায়। ওই বাসায় হেলেনা ও তার দুই মেয়ের সঙ্গে একই কক্ষে অবস্থান করছিলেন তারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার রাতে মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার বিয়ে ও টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয় নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোকাররম তার দেওয়া টাকা ফেরত চান এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠে। একই সঙ্গে হেলেনার নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে অসামাজিক আচরণের চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

র‍্যাবের দাবি, এরপর তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরদিন সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় তাকে। পরে ঘুমের ঘোরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় হাতুড়ি ও বটি দিয়ে মোকাররমকে আঘাত করা হয়।

পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়। র‍্যাব জানিয়েছে, মরদেহ ৮ খণ্ড করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাখা হয়। গভীর রাতে মান্ডার বিভিন্ন স্থানে মরদেহের অংশগুলো ফেলে দেওয়া হয়। মাথার অংশ আলাদা করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফেলে রাখা হয়েছিল।

ঘটনার পরদিনও অভিযুক্তদের স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে র‍্যাব। তারা বাইরে ঘোরাফেরা করেন, হোটেলে খাবার খান এবং বাসার ছাদে আড্ডা ও খাবারের আয়োজনও করেন।

পরবর্তীতে বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

র‍্যাব-৩ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হেলেনা বেগম ও তার মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত মোকাররমের মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি তাসলিমা আক্তার হাসনাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রি

য়াধীন রয়েছে।

 

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে