জেলা ডেস্ক
সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধে জড়িত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিমাঞ্চলের সদর দপ্তরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন তারা।
কোস্টগার্ড জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় তারা আত্মসমর্পণ করেন। পরে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২১২টি তাজা কার্তুজসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন ও ছয়টি ওয়াকিটকি জমা দেন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)।
তাদের মধ্যে সাতজন খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলার, চারজন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার এবং একজন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাসিন্দা।
সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক দস্যু বাহিনীর তৎপরতা ছিল। সাধারণত বাহিনী প্রধানের নাম বা ডাকনাম অনুসারেই এসব দলের পরিচিতি তৈরি হয়। কোনো বাহিনী ভেঙে নতুন দল গড়ে উঠলে পুরোনো নামের সঙ্গে নতুন শব্দ যুক্ত করে বাহিনীর নামও পরিবর্তিত হয়।
বনজীবীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, জিম্মি করে মুক্তিপণ নেওয়া এবং তাদের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে এসব বাহিনীর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘ডন’ বাহিনী থেকে পরিবর্তিত হয়ে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর নামও পরিচিতি পায়।
সুন্দরবনে বনজীবীদের নিরাপত্তা ও দস্যুতা দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মধ্যেই এবার এই বাহিনীর ১২ সদস্যের আত্মসমর্পণকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
