নবপ্রকাশ ডেস্ক:
রাজধানীতে ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নিজস্ব শুটিং স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুর, হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঢাকা ফিরে নিজের ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিও পরিদর্শনের পর এক ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। এই হামলার জন্য বিএনপির লোকজনকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সালমান।
ঘটনার সময় ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন সালমান মুক্তাদির। খবর পাওয়ামাত্রই তিনি বিমানে ঢাকায় পৌঁছান এবং সরাসরি স্টুডিওতে যান। স্টুডিওর ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষয়ক্ষতি লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
ভিডিওতে সালমানকে বলতে শোনা যায়, “ভিডিওটা স্পেশালি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নেবেন না, দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ।”
হামলার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সালমান বলেন, “যারা আক্রমণ করেছে, তারা হয়তো জানত না এটি আমার জায়গা। ভবনের মূল মালিকের সঙ্গে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো ঝামেলা তৈরি হয়েছিল। প্রতিপক্ষের ওপর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে মাঝখান থেকে আমার স্বপ্নের স্টুডিওটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবন মালিকের সম্পত্তি ক্ষতি করতে গিয়ে আমার সম্পত্তি ধ্বংস করা হলো।”
স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের গুরুত্বপূর্ণ শুটিং ফুটেজ, দামি ক্যামেরা, লাইটিং সরঞ্জামসহ কাজের নানা উপকরণ গচ্ছিত ছিল। হামলাকারীরা সেগুলো লুট করে নিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ব্যবসায়িক সুনাম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানান তিনি। সালমান বলেন, “আমাদের দেশীয় শিল্প-সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কাজের জন্য এমন আধুনিক স্টুডিও দেশে খুব বেশি নেই। আজ সেটি পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা হলো।”
হামলা ও লুণ্ঠনের পেছনে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে সালমান বলেন, “বিএনপির লোকজন যারা এটি করেছ, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করলে?” তবে সালমানের তোলা এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো নেতাকর্মী বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্টুডিও ধ্বংস হলেও কাজ বন্ধ না রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সালমান। নিজের টিমকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “তোমরা রিল্যাক্স থাকো। এটি কিছুই না, আমরা এখানেই কাজ করব।”
এই হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের পরিচয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
