ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » সাবেক উপমন্ত্রী ও ৫ বারের সংসদ সদস্য আবদুল হাই আর নেই

সাবেক উপমন্ত্রী ও ৫ বারের সংসদ সদস্য আবদুল হাই আর নেই

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

মুন্সিগঞ্জের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক উপমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানেল স্পিকার ও বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ আবদুল হাই (৭৭) আর নেই।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে (১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবারের প্রথম প্রহরে) রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন পরিবারের সদস্য ও দলীয় প্রতিনিধিরা। তাঁর প্রয়াণে মুন্সিগঞ্জসহ সারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ জন্মস্থান মুন্সিগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে দ্বিতীয় জানাজা ও পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

বর্ণাঢ্য জীবন ও রাজনৈতিক পথচলা

১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল হাই। তাঁর বাবা মনির উদ্দিন ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যবসায়ী। শিক্ষা জীবনে আবদুল হাই মুন্সিগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঐতিহাসিক মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ভাবধারার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

স্বনামধন্য এই রাজনীতিবিদ তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৪ (তৎকালীন) আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ (১৫ ফেব্রুয়ারি), ১৯৯৬ (১২ জুন) এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা জয়লাভ করে মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে প্যানেল স্পিকারের গুরুত্বপূর্ণ গুরুদায়িত্ব পালন করেন তিনি। দলীয় সংগঠনেও তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম—দীর্ঘদিন মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক অঙ্গন এবং মুন্সিগঞ্জবাসী একজন সৎ, নিবেদিতপ্রাণ ও অভিজ্ঞ অভিভাবককে হারাল।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে