ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » শেরপুরে গারো পল্লীতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ ৭ দফা দাবি নিয়ে শাহবাগে অবস্থান

শেরপুরে গারো পল্লীতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ ৭ দফা দাবি নিয়ে শাহবাগে অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো অধ্যুষিত দুটি পল্লীতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে আদিবাসী ছাত্র, যুব, নারী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। সমাবেশ থেকে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নিরপরাধদের মুক্তি এবং হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ওপর দায় চাপিয়ে তাদের বসতিতে হামলা চালানো আইনের শাসনের পরিপন্থী। বিল্লাল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনাটি যেমন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন, তেমনি গুজব বা সন্দেহের বশে গারো পল্লীতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
মরদেহ উদ্ধারের পর উত্তেজনা
সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট ঝিনাইগাতী উপজেলার পূর্ব গজারীকুড়া এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী বন্দধারা এলাকার একটি খালের পাশ থেকে বিল্লাল হোসেন নামের এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা প্রমাণ ছাড়াই পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গারো পল্লীতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
১৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি
গত ১৩ ও ১৪ আগস্ট ঢাকা থেকে যাওয়া আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে। তাদের প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, পূর্ব গজারীকুড়ায় ১৬টি এবং বন্দধারায় তিনটিসহ মোট ১৯টি গারো পরিবার হামলার শিকার হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লরেন্স বনোয়ারী, নার্গিস মানখিন, পিটার মানখিন, সিমন মানখিন, বিউটি দফো, অনিমা হাউই, শিখা চিছাম, শিল্পী মানখিন, বিপলা চিরান, শিশিলা মানখিন, আন্তনী বনোয়ারী ও অসীম দ্রংসহ আরও কয়েকটি পরিবার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, খাদ্যশস্য, টেলিভিশন, ফ্রিজ, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া সাতটি গরু, ২৩টি ছাগল এবং বিপুলসংখ্যক হাঁস-মুরগি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলার সময় কয়েকজনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
আতঙ্কে গারো পল্লী, গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ
ঘটনার পর থেকে পুরো গারো পল্লীতে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে বলে সমাবেশে জানানো হয়। ঘটনার দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১৯ জনকে আটক করে। পরে ১৪ জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও পাঁচজনকে শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা হলেন—পিটার মানখিন, দিপু হাউই, সেভেন মারাক, উৎস হাউই এবং সুরমা মং। বক্তারা দাবি করেন, কারাবন্দী উৎস হাউই দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।
সাত দফা দাবি
সমাবেশ থেকে আদিবাসী সংগঠনগুলো সাত দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গারো পল্লীতে হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নির্ধারণ করে সরকারি ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, বিল্লাল হোসেনের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও নিরপরাধ আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
বক্তারা বলেন, শেরপুরের গারো জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বিল্লাল হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার মাধ্যমেই এলাকার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে