খেলার বয়সে যে শিশুর হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, পুতুল কিংবা রঙিন স্বপ্ন সেই ছোট্ট রামিসা আজ একটি নির্মম ঘটনার প্রতীক। তার নাম এখন শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়, বরং পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া এক প্রশ্ন “শিশু রামিসার কি অপরাধ ছিল?”
রামিসা ছিল একটি সাধারণ শিশু। পরিবারের আদরের মেয়ে, যার ছোট ছোট স্বপ্ন ঘিরে ছিল বাবা-মায়ের পৃথিবী। প্রতিদিনের মতোই হয়তো সে হাসছিল, খেলছিল, ভবিষ্যতের সুন্দর দিনগুলোর অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই হাসি থেমে যায়। নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে একটি নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে পড়ে, আর সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ে একটি পরিবারের সব স্বপ্ন।
শিশুদের পৃথিবী হওয়ার কথা নিরাপদ। কিন্তু সমাজের নানা অপরাধ, অবহেলা আর অমানবিকতার কারণে আজ সেই নিরাপত্তাই প্রশ্নবিদ্ধ। রামিসার ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের সামাজিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। যেখানে একটি শিশু পর্যন্ত নিরাপদ নয়, সেখানে সভ্যতার বড় বড় দাবি কতটা সত্য সেটিও ভাবার বিষয়।
রামিসার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। সাধারণ মানুষ বিচার দাবি করছে, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাচ্ছে। শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। অনেকেই বলেছেন, “আজ রামিসা, কাল হয়তো অন্য কেউ।” এই ভয়ই এখন সমাজের বড় আতঙ্ক।
একজন বাবা যখন সন্তানের জন্য বিচার চান, তখন সেটি শুধু একটি পরিবারের দাবি থাকে না সেটি পুরো সমাজের আর্তনাদ হয়ে ওঠে। রামিসার পরিবারের কান্না যেন প্রতিটি বিবেকবান মানুষকে প্রশ্ন করে, “একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছি?”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু কঠোর শাস্তি দিলেই হবে না; প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা এবং শিশু সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ একটি শিশুর জীবন কখনোই অবহেলার বিষয় হতে পারে না।
রামিসা আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তার নাম আমাদের মনে করিয়ে দিক শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়া এখন আর শুধু দায়িত্ব নয়, এটি সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
লেখক: নুসরাত জাহান (এ্যানি)
শিক্ষার্থী, গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ।
