ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও মানবিক পুলিশিংয়ের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও মানবিক পুলিশিংয়ের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় পুলিশ বাহিনীকে আরও মানবিক ও পেশাদার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, এই রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত সদস্যকে হত্যা করেছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল পুলিশ সদস্যকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু স্মরণের মধ্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যেসব শহীদ পুলিশ সদস্য আত্মত্যাগ করেছেন, যে কোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।”

 

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি পুলিশ বাহিনীকে জনগণ ও দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রাজারবাগের রক্তস্নাত মাটিতে দাঁড়িয়ে নতুন করে শপথ গ্রহণের আহ্বানও জানান তিনি।

 

 

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার “উই রিভোল্ট”, অন্যদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ স্বাধীনতার সংগ্রামকে অনিবার্য করে তুলেছিল।

 

তবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন নিয়েও আলোচনা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিপুলসংখ্যক সৈন্য ঢাকায় জড়ো হওয়ার পরও কেন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একত্রিত রাখা হয়েছিল—এ প্রশ্ন এখনো গবেষণার বিষয় হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের প্যারেডের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং পুলিশের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

 

 

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়, আর সেই দায়িত্ব পালনে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনাদের সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করতে হবে—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।”

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম, তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। একইসঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

 

দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু বিদেশেই নয়, দেশের মানুষের প্রতিও পুলিশের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।”

শেষে প্যারেডে অংশ নেওয়া পুলিশ ও র‍্যাবের কর্মকর্তা-সদস্যদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে